বরাদ্দ ব্যয় বেড়েছে ৪ কোটি টাকা
তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধের ৮৬ পিআইসির মধ্যে ৬০টির কাজ এখনো শুরুই হয়নি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। তবে বরাদ্দ বাড়লেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তাহিরপুর উপজেলায় ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৮৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। গত বছর একই খাতে বরাদ্দ ছিল ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
তবে মাঠপর্যায়ে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ২৬টি পিআইসির কাজ শুরু হয়েছে। বাকি ৬০টি প্রকল্প এলাকায় মাটির সংকট থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। হাওরের পানি দ্রুত নামলে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও ৫৮টি প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় বোরো ফসল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।
তাহিরপুর উপজেলার একাধিক কৃষক জানান, সময়মতো বাঁধের কাজ শেষ না হলে আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে হাওরের বোরো ফসল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। এতে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বরাদ্দ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, “রেট শিডিউলের দাম বৃদ্ধি, নতুন অ্যালাইনমেন্ট তৈরি এবং হাওরের পরিধি ও প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ায় এ বছর বরাদ্দ বেশি এসেছে। কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পানি নামলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়, যা এ অঞ্চলের কৃষকদের প্রধান খাদ্য ও আয়ের উৎস। ফলে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: