সুনামগঞ্জে অর্থসংকটে বন্ধ ১০৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়
Led Bottom Ad

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণ, শিক্ষকরা বেকার

সুনামগঞ্জে অর্থসংকটে বন্ধ ১০৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১০/০১/২০২৬ ২৩:২৯:২৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছয়টি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে নির্মিত ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছিল এফআইভিডিবি। অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো নষ্ট হচ্ছে। কোথাও আবার বিদ্যালয়ের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম খুলে নিয়ে যাচ্ছে অসাধু লোকজন।

এফআইভিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ২১টি, তাহিরপুরে ১৪টি, জামালগঞ্জে ১০টি, বিশ্বম্ভরপুরে ২৯টি, শান্তিগঞ্জে ২০টি এবং দিরাই উপজেলায় ৯টি বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে শুধু শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তিনটি বিদ্যালয় চালু রয়েছে, যা এফআইভিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে পরিচালিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৪ সালের দিকে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় দানবীর ও ধন্যাঢ্য ব্যক্তিদের দানকৃত জমিতে এসব বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বিদ্যালয় নির্মাণে তৎকালীন সময়ে প্রায় ১১ থেকে ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলত এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল সন্তোষজনক। তবে কয়েক বছর পর অর্থ বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়গুলো একে একে বন্ধ হয়ে যায়।

বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকার শিশুদের কয়েক কিলোমিটার হেঁটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অনেক শিশু ঝরে পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থা থেকে। একই সঙ্গে এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের মিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, এসব বিদ্যালয়ে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করত। বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিশু আর লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি।

তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, হাওরপাড়ের ওই বিদ্যালয়টি ৭-৮ বছর আগে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি চালু হলে এলাকার শিশুদের পড়াশোনা অনেক সহজ হতো।

রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ওই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা নিরালা বেগম বলেন, “২০১৩ সালের দিকে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন নিজ উদ্যোগে পাঠদান চালিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু পরে আর সম্ভব হয়নি। এখনো আশা করি, বিদ্যালয়টি চালু হলে আবার পাঠদান করতে পারব।”

এফআইভিডিবি সুনামগঞ্জ অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার সালাহ উদ্দিন জানান, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যালয়গুলো বন্ধ হয়ে যায়। বরাদ্দ পেলে বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মতিন খান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যালয়গুলো চালুর বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যালয়গুলো পুনরায় চালু হলে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ বাড়বে এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পথও সৃষ্টি হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad