বিপাকে রোগীরা
সুনামগঞ্জের অধিকাংশ হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট
সুনামগঞ্জ জেলার অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ‘মেটফরমিন’ ও ‘গিক্লাজাইড’ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়া রোগীরা। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীরা ওষুধ কিনতে না পেরে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এনসিডি কর্নারগুলোতে (নন কমিউনিকেবল ডিজিজ) ডিসেম্বর মাস থেকে এই সংকট চলছে। বর্তমানে কিছু হাসপাতালে সীমিত পরিমাণে গিক্লাজাইড থাকলেও মেটফরমিন একেবারেই নেই। জামালগঞ্জ, দিরাই ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ডিসেম্বর থেকে ডায়াবেটিসের কোনো ওষুধেরই সরবরাহ নেই।
সূত্র জানায়, জেলায় এনসিডি কর্নার থেকে প্রায় ৪৩ হাজার ৪২৬ জন রোগী কার্ড নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৬ হাজার রোগী ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। প্রতিটি হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে এক থেকে দেড় লাখ ট্যাবলেট বিতরণ করা হলেও বর্তমানে তা প্রায় বন্ধ।
সরেজমিনে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এনসিডি কর্নারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্রাদার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই ডায়াবেটিসের প্রধান ওষুধের সাপ্লাই বন্ধ। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রের কর্মচারীরাও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বেতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মহিবুর রহমান বলেন, “যেখানেই যাই শুনি ওষুধ নাই। গরিব মানুষ হিসেবে বাইরে থেকে ওষুধ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামের আসলাম হোসেন বলেন, “দুই মাস ধরে হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ নেই। ওষুধ না খাওয়ায় রোগ বেড়ে যাচ্ছে।”
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এনসিডিতে ডায়াবেটিসের ওষুধের সংকট চলছে। ইনডোরেও ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। দ্রুত সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসীম উদ্দীন বলেন, আগে দাতা সংস্থার মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হতো। বর্তমানে সেই প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে সীমিত আকারে ওষুধ আসছে। সারা দেশেই এই সমস্যা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিসের ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ওষুধ সংকট অব্যাহত থাকলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন
এ রহমান
মন্তব্য করুন: