সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির ঐক্য চ্যালেঞ্জে, মিলন–মিজান সমঝোতার অপেক্ষা
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। দলের মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো মিজানুর রহমান চৌধুরীর মধ্যে সমঝোতা না হলে ভোটের মাঠে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা।
শনিবার বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে এই ঘোষণার পরও রোববার বিকাল পর্যন্ত মিজান বলয়ের অধিকাংশ নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বা ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নেননি। অনেকেই নিরব রয়েছেন, কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
দোয়ারাবাজারের একাধিক গণমাধ্যমকর্মী জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর মিজান সমর্থকরা অনেকটাই নিস্প্রভ হয়ে পড়েন। উপজেলা সদর ছেড়ে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। রোববার বিকাল পর্যন্ত তাদের কাউকে প্রকাশ্যে মিলনের পক্ষে কথা বলতে দেখা যায়নি।
ছাতক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মিজান বলয়ের নেতা ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, “যার প্রয়োজন, তাকেই এগিয়ে আসতে হবে। মিজান চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর মিলন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরও যোগাযোগ না করলে আমরা বাড়িতেই থাকবো।” তিনি আরও বলেন, “সমর্থকরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, এক না করলে কীভাবে ঐক্য হবে?”
দোয়ারাবাজারে মিজান বলয়ের সমর্থক হিসেবে পরিচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান মাস্টার বলেন, “ধানের শীষের পক্ষে থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সোমবার সিলেটে গিয়ে মিজান চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করবো।”
এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মিজান বলয়ের নেতা হারুনুর রশিদ বলেন, “২২ জানুয়ারির আগেই মিলন সাহেব মিজান বলয়ের সঙ্গে বসতে পারেন। বসলে আশা করি ক্ষোভ-অভিমান কেটে যাবে।”
স্থানীয় রাজনীতিতে কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন তিনবারের সংসদ সদস্য এবং মিজানুর রহমান চৌধুরী ছাতকের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। প্রায় দুই দশক ধরে দু’জনের মধ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে দলীয় কমিটিতেও দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বলয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নেতৃত্ব গঠন করা হয়ে আসছে।
বর্তমানে ছাতক, দোয়ারাবাজার ও ছাতক পৌরসভা বিএনপির কমিটিগুলোও দুই বলয়ের সমন্বয়েই গঠিত। তবে বাস্তবে দলীয় কার্যক্রম আলাদা আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। ভোটের হিসেবে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও দলীয় ঐক্য ছাড়া জয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, “দলের নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ সবার সঙ্গে কথা বলবো।” অন্যদিকে মিজানুর রহমান চৌধুরীও জানিয়েছেন, তিনি দলের সঙ্গেই আছেন এবং দলীয় চেয়ারপার্সনের নির্দেশে বৃহত্তর স্বার্থে প্রার্থিতা থেকে সরে
এ রহমান
মন্তব্য করুন: