সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে এখনো শুরু হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ
Led Bottom Ad

শঙ্কায় ১২ হাজার হেক্টর বোরো জমি

সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে এখনো শুরু হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৪/০১/২০২৬ ১২:০৯:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে এখনো শুরু হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঘোষণা ও কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরে বাঁধের কাজ শুরুর কথা থাকলেও নানা জটিলতা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি অধিকাংশ প্রকল্পে।

পাউবো ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক—এই চার উপজেলা নিয়ে গঠিত দেখার হাওর জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর। প্রায় ১২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিয়ে গঠিত এই হাওরকে বোরো ফসলের ‘ভাণ্ডার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন পার হলেও শান্তিগঞ্জ অংশের উথারিয়া বাঁধের বিপজ্জনক মূল ক্লোজারসহ অধিকাংশ ফসলরক্ষা বাঁধ এখনো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় ২৩টি হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে মোট ৬৭টি প্রকল্প সম্প্রতি চূড়ান্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির দাবি, প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ প্রদান করা হলেও অধিকাংশ পিআইসির ব্যাংক হিসাব এখনো খোলা হয়নি, ফলে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উথারিয়া, হলদির কাড়া, ছাইয়া কিত্তা ও দিঘদাইড়—এই চারটি মূল বাঁধ মহাসিং নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এবং এগুলোই দেখার হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। এসব বাঁধ টেকসই করতে শুরু থেকেই মানসম্মত কাজ প্রয়োজন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছরই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করায় বাঁধ টেকসই হয় না এবং সামান্য পানি চাপেই ভেঙে পড়ে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আসামপুর গ্রামের পশ্চিম পাশ থেকে উথারিয়া হয়ে আস্তমা গ্রামের উত্তর অংশ পর্যন্ত নদীর দুই পাশে প্রায় ৯ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৭টি পিআইসি গঠন করা হয়েছে। তবে আস্তমা অংশে মাত্র ১–২টি প্রকল্পে আংশিক কাজ শুরু হলেও অধিকাংশ প্রকল্পে এখনো কোনো কাজ শুরু হয়নি।

গত রোববার (১১ জানুয়ারি) সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, বাঁধের কোনো অংশে কাজের বিবরণীসংবলিত সাইনবোর্ড নেই। কোথায় কত টাকার কাজ, কে কাজ করছে কিংবা কাজের মেয়াদ—এসব বিষয়ে স্থানীয়দের কোনো ধারণা নেই। কৃষকদের অভিযোগ, যেসব জায়গায় কাজ শুরু হয়েছে সেখানে নিয়ম না মেনে বাঁধের ওপরের মাটি নিচে ফেলে ও দুই পাশ কেটে নিজের মতো করে কাজ করা হচ্ছে।

আস্তমা গ্রামের কৃষক ছালিম উল্লাসহ একাধিক কৃষক জানান, উথারিয়া ক্লোজার এই হাওরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান। এটি অরক্ষিত রেখে অন্য জায়গায় কাজ করলে কোনো লাভ হবে না। আগাম বন্যা এলে পুরো হাওরের বোরো ফসল তলিয়ে যাবে। প্রতি তিন বছর পরপর এ অঞ্চলে আগাম বন্যা হয়। গত তিন বছর ভালো ফসল হলেও এ বছর কৃষকদের জন্য বড় দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান মোহন বলেন, সব পিআইসিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু হতে দেরি হচ্ছে। আগামী ২–৩ দিনের মধ্যে দেখার হাওরে পুরোদমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্লোজার খোলা রাখা হয়েছে। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad