ছাতকে নদীপথের সরকারি টোল আদায় নিয়ে জটিলতা
Led Bottom Ad

টোল না পেয়ে চরম ক্ষতির মুখে ইজারাদার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ছাতকে নদীপথের সরকারি টোল আদায় নিয়ে জটিলতা

নিজস্ব প্রতিনিধি. ছাতক

১৪/০১/২০২৬ ২২:২২:৪৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভা কার্যালয় থেকে সরকারি বিধি অনুযায়ী নদীপথে টোল আদায়ের জন্য ইজারা গ্রহণ করেও টোল আদায় করতে পারছেন না ইজারাদার প্রতিষ্ঠান। এতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাদার মেসার্স সামছু মিয়া অ্যান্ড সন্স।

জানা গেছে, গত বছরের ১৩ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ ১৪৩২ বাংলা সনে ব্যবহার ও বিক্রির উদ্দেশ্যে লোড-আনলোড, স্টক ও মজুদ, আমদানি-রপ্তানি ইট, বালু, পাথর, চুনাপাথর ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর ওপর নদীপথে টোল আদায়ের জন্য দুটি পয়েন্ট ইজারা দেওয়া হয় মেসার্স সামছু মিয়া অ্যান্ড সন্সকে।

কিন্তু ইজারা গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় দুটি নৌ পরিবহন সংগঠন—শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতি ও একতা বালি উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড—সরকারি নিয়ম অমান্য করে ইজারাদারের কাছে টোল পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে এবং ইজারাদার চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন।

ইজারাদারের অভিযোগ, টোল আদায় করতে গেলে তাদের নিয়োজিত লোকজনকে মারধর করা হয়। এমনকি বৈধ টোল আদায়কারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটেছে। পরে আদালতে বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে টোল আদায়কারী শ্রমিকরা জামিনে মুক্ত হন।

গত বছরের ১৭ এপ্রিল ছাতক পৌরসভার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা টোল আদায় বৈধ বলে স্বীকার করলেও বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক নৌযান থেকে কোনো ধরনের টোল আদায় করা যাচ্ছে না বলে জানান ইজারাদার।

এ বিষয়ে পৌরসভার ইজারাদার মেসার্স সামছু মিয়া অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন রানা বলেন, “আমি সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে টোল ইজারা নিয়েছি। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টোল পরিশোধ করছে না। এতে আমি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এই অবস্থায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে একতা বালি উত্তোলন ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হাজি আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমাদের নৌযানগুলো পৌরসভার নির্ধারিত সীমানায় আসে না। তবে যারা আসে, তারা নির্ধারিত টোলের চেয়ে কিছু কম পরিশোধ করে।”

এ বিষয়ে শাহপরান ইঞ্জিন নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি হাজি ছালেক মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ছাতক পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা স্বরদিন্দু রায় বলেন, “ইজারাদার লিখিতভাবে আবেদন করলে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।”

ছাতক পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিপ্লোমেসি চাকমা জানান, “আমি সদ্য যোগদান করেছি। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad