বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে সুনামগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ তলা ভবন নির্মাণকাজ
Led Bottom Ad

বরাদ্দের অভাবে থমকে আছে সুনামগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ তলা ভবন নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

১৫/০১/২০২৬ ১১:৩৭:৩৬

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

বরাদ্দ সংকটের কারণে থমকে আছে সুনামগঞ্জের নারী ও শিশুদের চিকিৎসা সেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণকাজ। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হওয়া নির্মাণকাজটি ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

নিজস্ব ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে শহরের ময়নার পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভাড়া বাসায় কোনোমতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে সেখানে কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৭২ বছর পর সুনামগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি ৬ শয্যা থেকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও নিজস্ব ভবনের অভাবে বর্তমানে মাত্র ২টি শয্যা নিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভাড়া বাসায় প্রসূতিদের নরমাল ডেলিভারি, মাতৃত্বকালীন সেবা এবং নারী ও কিশোরীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালু থাকলেও শয্যা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় রোগীদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. দেবাশীষ শর্মা বলেন, “ভাড়া বাসায় কোনোভাবে সেবা চালু রাখা হয়েছে। রোগীদের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু নিজস্ব ভবন না থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ৮ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম.এন.পি এম এ আর জেবি। তবে ২০২৪ সালের জুন মাসে ভবন নির্মাণকাজের চতুর্থ অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ভবন নির্মাণের মেয়াদও ওই সময়েই শেষ হয়।

পরবর্তী পঞ্চম অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দ পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও বরাদ্দ না আসায় দীর্ঘ এক বছর ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। যদিও ইতোমধ্যে ভবনের ৬ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হওয়ায় প্রায় ৫১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এদিকে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে একনেক সভায় অপারেশন প্ল্যানের বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, “বরাদ্দের অভাবে ভবনের কাজ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি বরাদ্দের অনুমোদন পাওয়া গেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলে অবশিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর আন্তরিক।”

এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad