সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সংকট চরমে: চাহিদার অর্ধেক সরবরাহে বিপর্যস্ত জনজীবন
সুনামগঞ্জে তীব্র লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গরমের শুরুতে এই ভয়াবহ লোডশেডিং ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনে ও রাতে অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। সুনামগঞ্জ শহরের বড়পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল আলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কারেন্টের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দিনে কাজ করা যায় না আর রাতে গরমের জন্য ঘুমানো যায় না। অফিসে ফোন দিলে শুধু বলে লোডশেডিং চলছে।" শহরের লন্ডন প্লাজার ব্যবসায়ী রাজিব দাস জানান, সন্ধ্যা ৭টার পর মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনার পাশাপাশি দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরও করুণ; সেখানে দিনের অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে জানিয়েছেন দিরাই পৌর শহরের দউজ এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান লিটন। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহের পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় তীব্র সুপেয় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বিশাল ঘাটতিই এই সংকটের মূল কারণ। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মিলন কুমার কুণ্ডু জানান, তাঁদের ৪ লাখ গ্রাহকের জন্য দিনে ৩৪ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৯ মেগাওয়াট। রাতে চাহিদা বেড়ে ৫৫ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট হলেও অর্ধেকেরও কম সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
একই চিত্র সুনামগঞ্জ পিডিবির বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগেও। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল আহমদ জানান, পিডিবির ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬ থেকে সাড়ে ৬ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় গত কয়েক দিন ধরে কোনোভাবেই নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতির অবসান কবে হবে সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই; জাতীয় গ্রিড বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল ফিডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: