বড়লেখায় পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অফিসের এক লাইনম্যানকে ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে লাইনম্যান হলেও কামরুল ইসলাম নামের ওই কর্মচারী অলিখিতভাবে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারের ক্ষমতা ভোগ করছেন বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দাবি করেছেন। এর আড়ালে নতুন সংযোগ, ট্রান্সফরমার পরিবর্তন ও লাইন নির্মাণে চলছে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের দুই জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন ও অমল পাল মাঠ পর্যায়ের অধিকাংশ কাজ লাইনম্যান কামরুল ইসলামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রকৌশলীদের তদন্তে যাওয়ার কথা থাকলেও পাঠানো হয় কামরুলকে। তিনি সরেজমিনে গিয়ে ঘুষের বিনিময়ে সমঝোতা করলে তবেই ফাইল ছাড় পায়; অন্যথায় নানা অজুহাতে আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এছাড়া গ্রাহকদের সাথে নিয়মিত অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
উপজেলার তারাদরম গ্রামের বাসিন্দা সামছু মিয়া জানান, সোমবার রাতের ঝড়ে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে ৫০-৬০টি পরিবার অন্ধকারে থাকলেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি কামরুল। শেষ পর্যন্ত রাত ১১টায় সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়। এছাড়া মুছেগুল, গ্রামতলাসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের অভিযোগ, কামরুল নিজে কাজ না করে স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে থাকেন, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তর শাহবাজপুর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল লতিফ কর্মস্থলে না থেকে পাশের উপজেলায় বসবাস করেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রাইভেট লোক দিয়ে কাজ করান বলেও জানা গেছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম ও জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তবে বড়লেখা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “তারাদরম গ্রামের সমস্যাটির দ্রুত সমাধান করা হয়েছে। গ্রাহক হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদাসীনতায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: