তাহিরপুরে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ঘরবাড়ি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের ভয়াবহ তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে অন্তত ১৫টি পরিবারের বসতঘর। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আকস্মিক শুরু হওয়া এই ঝড়ে ঘরবাড়ির চাল ও বেড়া উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গাছপালা ও নৌযানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ আসা এই দুর্যোগে চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার হাওরপাড়ের হতদরিদ্র মানুষ ও কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের তরং কান্দাহাটি, শ্রীপুর বাজার, মদনপুর, কুড়েরপাড় ও নয়াবন্দসহ বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে যায়। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সামিউন আখঞ্জী, বাদশা মিয়া, আসিক মিয়া, হাবিবুর রহমান মাস্টার, আকাল দাস, সোহেল মিয়া, মুরাদ মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিনের পরিবার। অনেক জায়গায় টিনের চাল উড়ে কয়েকশ গজ দূরে গিয়ে পড়েছে এবং মাটির দেয়াল ধসে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সামিউন আখঞ্জী আক্ষেপ করে বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ, ভালো ঘর বানানোর সামর্থ্য নেই। একটি দাতা সংস্থার দেওয়া ঘরে পরিবার নিয়ে থাকতাম, ঝড় সেটিও ভেঙে দিয়ে গেল। এখন ছোট সন্তান আর স্ত্রীকে রেখে কাজে যেতেও ভয় পাচ্ছি।” ক্ষতিগ্রস্ত বাদশা মিয়া জানান, অনেক কষ্টে জমানো টাকা দিয়ে হাওরের কিনারায় এক টুকরো জমি কিনলেও ঘর সংস্কার করার টাকা তাঁর কাছে নেই। এর মধ্যেই ঝড়ে ঘরের টিন উড়ে যাওয়ায় তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে।
মদনপুর গ্রামের কৃষক আকাল দাস জানান, ঝড়ে ঘরের অর্ধেকের বেশি চাল উড়ে গেছে এবং হাওরে থাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতায় কৃষকরা যখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন, তখন কালবৈশাখীর এই আঘাত তাঁদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: