সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
‘কক্সবাজারে বিমান বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট হতো না’
কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমান বাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সামরিক সরঞ্জামের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। আজ যদি এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।” তিনি বর্তমান রোহিঙ্গা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, দেশের সমুদ্রপথ রক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় নৌ ও বিমান বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত ‘অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল’ (ওপিভি) এবং বিমান বাহিনীর জন্য ‘মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ ক্রয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি তেলের সংকট ও রিফাইনারি সক্ষমতা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি তৈরি করতে পারিনি। আমাদের একমাত্র রিফাইনারিটি মাত্র ১০-১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। রিফাইনারির অভাবেই আমরা রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করতে পারছি না।” শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি একে অপরের পরিপূরক উল্লেখ করে তিনি সেনাবাহিনীকে সব সময় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতার মধ্যে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই ক্যাপস্টোন কোর্সে সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ আমলা, কূটনীতিক ও করপোরেট প্রতিনিধিসহ মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: