বিপাকে নিচু আয়ের মানুষ ও ব্যবসায়ী
সিলেটে লোডশেডিংয়ে জনজীবন ওষ্ঠাগত
সিলেট নগরজুড়ে লোডশেডিংয়ের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
নগরীর আখালিয়া এলাকায় দেখা যায়, পরেশ নামের এক মুচি লোডশেডিংয়ের কারণে নিজের মোবাইল ফোনটি মুখে কামড়ে ধরে তার আলোতে জুতা সেলাই করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সন্ধ্যার পর গ্রাহক বেশি এলেও তখনই বিদ্যুৎ থাকে না। মোবাইলের আলোতে বেশিক্ষণ কাজ করলে মাথা ঝিমঝিম করে, কিন্তু জীবন ধারণের তাগিদে কাজ বন্ধ করার উপায় নেই। কেবল পরেশ নন, কুমারপাড়া, নয়াসড়ক ও জিন্দাবাজার এলাকার রেস্তোরাঁ ও কফিশপ ব্যবসায়ীরাও লোকসানের কথা জানিয়েছেন। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনার মধ্যে যেটুকু সময় ব্যবসা হয়, লোডশেডিংয়ের কারণে সে সময়েও গ্রাহকদের অর্ডার ঠিকমতো সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় গত ১৭ এপ্রিল থেকে সিলেটে প্রায় ৪০ শতাংশ লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। পিডিবির চার জেলায় ২২৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ১৮৫ মেগাওয়াট। পাওয়ার প্লান্টে জ্বালানি সংকট এবং এলএনজি আমদানিতে সমস্যার কারণে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে এই লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে এবং সিস্টেম ব্রেকডাউন এড়াতে লোড ম্যানেজমেন্ট করতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত লোডশেডিং না করার বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে এক সভায় আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নগরবাসীর দাবি, সন্ধ্যা ৭টার পর সাধারণ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও আবাসিক এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব করা জরুরি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: