বাম্পার ফলনেও হাসি নেই হবিগঞ্জের কৃষকের মুখে
Led Bottom Ad

ধানের কম দামে দিশেহারা চাষি

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই হবিগঞ্জের কৃষকের মুখে

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

২৫/০৪/২০২৬ ১০:০৭:০৩

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, কিন্তু এই সাফল্যে আনন্দ নেই কৃষক পরিবারগুলোতে। ধানের অস্বাভাবিক দরপতন আর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের ঘানি টানতে হচ্ছে প্রান্তিক চাষিদের। দাদনের টাকা পরিশোধ আর সারা বছরের খোরাকি জোগানো নিয়ে সাধারণ কৃষকদের চোখে এখন কেবলই উৎকণ্ঠার ছাপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা শুরু হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা পিছু ছাড়ছে না। কোথাও পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, আবার কোথাও শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরি দিতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে কৃষকদের। সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে ধানের দামে। আজমিরীগঞ্জের শুক্রিবাড়ি গ্রামের কৃষক সৌরভ মিয়া জানান, ৬৫ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় ১৯ মণ ফলন পেলেও ৫ মণ চলে যাচ্ছে শ্রমিকের মজুরিতে। অবশিষ্ট ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৭১০ টাকা মণ দরে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অত্যন্ত কম।

একই আক্ষেপ জলসুখা গ্রামের কৃষক আক্কাছ মিয়ার। তিনি বলেন, “সার, বীজ ও রোপণসহ প্রতি মণ ধানে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ৬৭৫ টাকায়। ঋণ শোধ করবো কীভাবে আর সংসারই বা চলবে কী দিয়ে?” হবিগঞ্জ সদরের ভদৈ গ্রামের লায়েছ মিয়াও লোকসানের কথা জানিয়ে বলেন, ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে আগামী বছর আবাদ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। যদিও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির কারণে ২৮১ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তবে সার্বিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। উপ-পরিচালক মো. আকতারুজ্জামান জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত ধান কাটার কাজ চলছে এবং যেখানে মেশিন পৌঁছানো যাচ্ছে না, সেখানে শ্রমিকরা কাজ করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত ধান সংগ্রহ শুরু না করলে সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে তাঁদের পথে বসতে হবে।


এ রহমান

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad