ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পিতৃপরিচয়
হবিগঞ্জে সন্তানের পিতার স্বীকৃতির দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা
তিন বছরের শিশু হালিমা মুর্শেদার পিতৃপরিচয় এবং নিজের অধিকার ফিরে পেতে প্রভাবশালী মহলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্লান্ত এক তরুণী মা। ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের পিতৃত্বের প্রমাণ মিললেও উল্টো মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকির শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগম ও তাঁর পরিবার। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা যায়, কামারগাঁও গ্রামের প্রভাবশালী মাতবর মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী মুর্শিদের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন স্বপ্না। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাঁকে ধর্ষণ করেন গৃহকর্তা মুর্শেদ। এরই একপর্যায়ে স্বপ্নার ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা শিশু, যার নাম রাখা হয় হালিমা মুর্শেদা। লোকলজ্জার ভয় ও প্রভাবশালীদের চাপে স্থানীয় সালিশে বিষয়টির সুরাহা না হওয়ায় ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর আদালতের দ্বারস্থ হন স্বপ্না।
মামলার তদন্ত ভার পেয়ে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা খুঁজে পায়। পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, শিশু হালিমার জৈবিক পিতা অভিযুক্ত মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী (৫৫)। চলতি বছরের এপ্রিলে পিবিআই কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র পাল এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।
স্বপ্নার অভিযোগ, ডিএনএ পরীক্ষায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তের ছেলে, স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক জামিল আহমেদ চৌধুরী খোকন মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। জীবন বাঁচাতে বর্তমানে তাঁরা নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, মুর্শেদ চৌধুরী প্রভাবশালী হওয়ায় বহাল তবিয়তে আছেন।
ভুক্তভোগী স্বপ্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "মুর্শেদ চৌধুরী বিয়ের কথা বলে আমার জীবন নষ্ট করেছেন। এখন ডিএনএ টেস্টে সব প্রমাণ হওয়ার পরেও তাঁরা আমাকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছেন। আমি আমার সন্তানের অধিকার ও এই অন্যায়ের বিচার চাই।" অভিযুক্ত মুর্শেদ চৌধুরীর ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে তাঁর ছেলে জামিল আহমেদ খোকন বিষয়টি অস্বীকার করে একে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: