ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
ধসে পড়ছে সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতুর সংযোগ সড়ক
সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুজ জহুর সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন আর সাম্প্রতিক বর্ষণে সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় জেলা শহরের সঙ্গে দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম পাশে কুতুবপুর এলাকায় সংযোগ সড়কের সিসি ব্লকগুলো ধসে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জনসাধারণের চলাচলের সিঁড়ির পাশের মাটি সরে যাওয়ায় পিলারেও ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। একইভাবে পূর্ব পাশে মল্লিকপুর অংশেও সড়কের বিশাল এলাকা ধসে গেছে। স্থানীয় বাইক চালক আলমগীর হোসেন জানান, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথে চলাচল করতে হয়। রাতে গর্তগুলো দেখা যায় না বলে যেকোনো সময় বড় প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
সেতুটি কেবল যাতায়াতের সমস্যাই নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী মাহাদি হাসান ইমুসহ বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় সেতুর ওপর মাদকসেবীদের আড্ডা জমে। জনশূন্য ও অন্ধকার এই সেতুটি এখন অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা বা ‘ক্রাইম জোন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত দুই-আড়াই বছর ধরে এই ভাঙন শুরু হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁদের দাবি, বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই সংস্কার না করলে সেতুটি অকেজো হয়ে পড়তে পারে।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে সিসি ব্লকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, শিগগিরই টেকসইভাবে সেতুর সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেতুতে সোলার লাইট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। সুরমা নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ২০১৫ সালে চালু হওয়ার পর জেলার সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, কিন্তু বর্তমানের এই বেহাল দশা সুনামগঞ্জবাসীর জন্য এখন চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: