পানিবন্দি ৪০০ পরিবার
ওসমানীনগরে মহাসড়ক সম্প্রসারণে স্থবির পানিনিষ্কাশন
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চললেও অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মহাসড়ক সংলগ্ন দয়ামীর ইউনিয়নের চকমন্ডল কাপন ও চকবাজার এলাকায় প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে কাজ করায় সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, যা প্রায় ৪০০ পরিবারের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় চকমন্ডল কাপন গ্রামের দীর্ঘদিনের পুরনো পানিনিষ্কাশন ড্রেনটি ভরাট করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনো ড্রেন বা কালভার্ট নির্মাণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমানে মফিজ মিয়া ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে আব্দুল আজিজ ও তারিস মিয়ার বাড়িসহ বিশাল এক জনপদ এখন হাঁটুপানিতে তলিয়ে আছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও বাজারে যাতায়াতে গ্রামবাসীকে পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বিশেষ করে বৈশাখী ধান মাড়াইয়ের এই মৌসুমে কৃষকরা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।
জমে থাকা দূষিত পানির কারণে এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সমাজসেবী হাফিজ আবু ইউসুফ আজাদ জানান, পুরনো ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে গ্রামটি কার্যত পানিবন্দি। চলমান হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি এবং জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহে শিশুদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়ছেন অভিভাবকরা। গ্রামবাসী একে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণের কারণেও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের কাজের ফলে স্থানীয়দের যদি কোনো দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, তবে তা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন। বসতবাড়িতে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: