কুশিয়ারা খুবলে খাচ্ছে বালুচক্র
হুমকির মুখে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ও শেরপুর অর্থনৈতিক জোন
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ও শেরপুর অর্থনৈতিক জোন সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা ও শতকোটি টাকার নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন চরম হুমকির মুখে। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় এই লুটতরাজ চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আউশকান্দি ও দীঘলবাক ইউনিয়নের পাহাড়পুর, পারকুল, দুর্গাপুর ও গালিমপুর মৌজায় বালু উত্তোলনে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়দের দাবি, তালুকদার এন্টারপ্রাইজ, ওয়াহিদ এন্টারপ্রাইজ ও 'বালু আশরাফ' হিসেবে পরিচিত চক্রগুলো এই লুটরাজ্যের মূল হোতা। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেট আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় কুশিয়ারা নদীর বুক থেকে দিনরাত বালু তোলা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ৫-৬টি বিশাল ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ খুবলে বালু তোলা হচ্ছে। দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই বালু কয়েক কিলোমিটার দূরে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গত দুই মাসে পাহাড়পুর ও পারকুল এলাকায় অন্তত ১০টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মামলা ও হামলার ভয়ে তটস্থ স্থানীয় বাসিন্দারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে বলছেন, ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ এই বালু উত্তোলনের ফলে ধসে পড়তে পারে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জুল সোহেল বলেন, "নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় ভাঙন ঝুঁকি প্রকট হচ্ছে। এটি পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় ডেকে আনবে।"
অভিযুক্ত ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী ও আশরাফ হোসেন দাবি করেছেন, তারা সরকারি নিয়ম মেনে ও রয়্যালটি দিয়েই বালু তুলছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলা হলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, "নিয়মিত অভিযানের পরেও বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। তবে আমরা তৎপর রয়েছি।" জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিতে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: