ট্রাম্পের পাকিস্তান সফর বাতিল
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানে নির্ধারিত এক গুরুত্বপূর্ণ সফর বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের তেহরানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করতে ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তেহরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার পরপরই ট্রাম্পের এই ঘোষণা সামনে এল।
বিবিসি জানায়, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের এই সফর সম্পর্কে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, সেখানে গেলে ‘অনেক সময় নষ্ট’ হতো। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যদি সত্যিই আলোচনা করতে চায়, তবে তাদেরই সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বৈঠক শেষে জানান, ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে; তবে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে কতটা আন্তরিক তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
যদিও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তবুও হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা কাটছে না। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুক্তরাষ্ট্র নৌ-উপস্থিতি বাড়িয়েছে, বিপরীতে ইরান কিছু ক্ষেত্রে চলাচল সীমিত করেছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে তেহরান সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা অস্বীকার করেছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প মনে করেন, এই সফর বাতিল হলেও আপাতত নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা নেই।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানালেও অবরোধ ও হুমকি পরিস্থিতিকে জটিল করছে বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ দুই পক্ষের বৈঠককে ‘আন্তরিক ও ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও থমথমে। বিশেষ করে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কঠোর নির্দেশের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সব মিলিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও অঞ্চলটিতে অনিশ্চয়তা কাটছে না।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: