টাঙ্গুয়ার হাওরে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

টাঙ্গুয়ার হাওরে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার

শামছুল আলম আখঞ্জী,তাহিরপুর প্রতিনিধি

৩১/০৫/২০২৬ ১৭:২৯:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকা টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন পাটলাই নদীতে চলন্ত নৌকা থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া কিশোর তামিমের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর আজ রোববার বিকেলে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তামিম জেলার ধর্মপাশা উপজেলার গোল্লা গ্রামের বাসিন্দা।


এর আগে গত শুক্রবার একই এলাকায় নৌকা ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর পর, পরপর দুই দিনে দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে ধর্মপাশা উপজেলা থেকে ২৫-৩০ জনের একটি পর্যটক দল নৌকা নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় বেড়াতে যান। দিনভর হাওর ঘুরে বিকেলে তাঁরা ট্যাকেরঘাটের নীলাদ্রি লেক এলাকায় পৌঁছান এবং সেখানে নৌকায় রাত যাপন করেন। পরদিন শনিবার (৩০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর বাজার সংলগ্ন পাটলাই নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চলন্ত নৌকার ছাদ থেকে হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যায় কিশোর তামিম। সঙ্গে সঙ্গে নদীর তীব্র স্রোতে সে তলিয়ে যায়। সহযাত্রী ও স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক নদীতে নেমে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


ঘটনাস্থলটি জেলা সদর বা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থেকে বেশ দূরবর্তী ও দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ প্রায় ২৮ ঘণ্টা তল্লাশির পর আজ বিকেলে পাটলাই নদীতে তামিমের মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তা উদ্ধার করে।


তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একই এলাকায় দুই দিনে পানিতে ডুবে দুটি দুর্ঘটনা ঘটল। শুক্রবার বিকেলে নৌকা ডুবে নিখোঁজ হওয়া শিশুর মরদেহ আগেই উদ্ধার করা হয়েছিল। আর শনিবার দুপুরে নিখোঁজ কিশোর তামিমের মরদেহ আজ উদ্ধার করা হয়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে টাঙ্গুয়ার হাওরে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে পর্যটকবাহী নৌকাগুলো চলাচল করে। চালকদের অসতর্কতা এবং পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে উদাসীনতার কারণেই বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় প্রশাসন বারবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও চলন্ত নৌকার ছাদে দাঁড়িয়ে বা বসে যাতায়াত করার বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

শামসুল আলম আখঞ্জী/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: