ফিফা বিশ্বকাপে অফিশিয়াল দায়িত্বে সিলেটের নন্দলাল ও রিদি

ফিফা বিশ্বকাপে অফিশিয়াল দায়িত্বে সিলেটের নন্দলাল ও রিদি

নীরব চাকলাদার

০৬/০৬/২০২৬ ২৩:২৪:০১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গড়াতে বাকি আর মাত্র ৫ দিন। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া রেকর্ড ৪৮ দেশের এই ঐতিহাসিক মেগা আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। আর এই বিশ্বমঞ্চেই বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের জন্য এক অনন্য ও গৌরবময় খবর বয়ে নিয়ে এসেছেন সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার দুই কৃতি সন্তান—নন্দলাল দে ও সুমাইয়া আহমেদ রিদি। অত্যন্ত কড়া প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা দুজনেই ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।


বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৫ হাজার ভলান্টিয়ারের এই বিশাল বহরে যৌথ আয়োজক তিন দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো) ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন কুলাউড়ার এই দুই অবিনাশী তরুণ।


যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নন্দলাল দে কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সন্তান। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বমঞ্চে কাজ করার যে স্বপ্ন কোটি তরুণের থাকে, নন্দলাল তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তিনি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে অফিশিয়াল ভলান্টিয়ার হিসেবে যুক্ত থাকবেন। মাঠের ভেতরের ও বাইরের নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় তার এই অংশগ্রহণ প্রবাসে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।


এদিকে কানাডার টরন্টোতে সপরিবারে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সুমাইয়া আহমেদ রিদি শিক্ষার আলো ছড়ানো এক চেনা পরিবারের সন্তান। তিনি কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক ইংরেজি প্রভাষক শাহিন আহমদ এবং প্রাইমারি স্কুলের সাবেক সহকারী শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যা। যৌথ আয়োজক দেশ কানাডার ঐতিহ্যবাহী টরন্টো ভেন্যুতে অফিশিয়াল প্রতিনিধি ও অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত থাকবেন রিদি।


কেবল ভাগ্য নয়, বরং নিজের চোখধাঁধানো যোগ্যতার বলেই ফিফার এই বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন রিদি। তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে বাংলা, ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, কোরিয়ান এবং হিন্দি—এই ৫টি ভাষায় কথা বলতে পারেন। বিশেষ করে কানাডার অন্যতম প্রধান দাপ্তরিক ভাষা ফ্রেঞ্চ (ফরাসি)-এ তার দারুণ দক্ষতা রয়েছে। এই বহুভাষী ও অসামান্য নেতৃত্ব গুণের (Leadership Skill) কারণে টরন্টো সিটিতে আগত বিভিন্ন দেশের হাই-প্রোফাইল অতিথি, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের প্রফেশনাল গাইডলাইন দেওয়া এবং দেখভালের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে রিদির ওপর।


উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার আগে থেকেই কানাডার মাটিতে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আসছেন রিদি। তিনি ‘ইলেকশন কানাডা’ (Election Canada) এবং ‘ইলেকশন অন্টারিও’ (Election Ontario)-র অধীনে একাধিক নির্বাচনে অত্যন্ত সফলতার সাথে ‘প্রিসাইডিং অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

যে দায়িত্ব ও সুযোগ থাকছে ভলান্টিয়ারদের


১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই আসরে নির্বাচিত ভলান্টিয়াররা স্টেডিয়াম অপারেশন, দর্শক সেবা, টিকিট ব্যবস্থাপনা, মিডিয়া সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। ফিফা ভলান্টিয়ারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ, থাকা-খাওয়াসহ আন্তর্জাতিকমানের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে থাকে। মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বের শীর্ষ ফুটবলারদের একদম কাছ থেকে দেখার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি একটি বড় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন নন্দলাল ও রিদি।


স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্ব নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন: "স্বেচ্ছাসেবীরা ফিফা টুর্নামেন্টের হৃদয়, প্রাণ ও হাসি। তারা নিজেদের পরিচয়কে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরতে পারে, টুর্নামেন্টের অন্তরালের দৃশ্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায় এবং এমন সব স্মৃতি তৈরি করে, যা আজীবন থেকে যায়।"


সুদূর প্রবাসে থাকলেও কুলাউড়ার এই সন্তানদের মন পড়ে আছে দেশের মাটিতেই। সুমাইয়া রিদি জানান, অনেক সময় প্রবাসে বাংলাদেশিদের অন্য দেশের নাগরিক বলে ভুল করা হয়, তারা সেই ভুল ধারণা ভেঙে দিতে চান। ফিফা বিশ্বকাপের মতো এত বড় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সময় তারা অত্যন্ত গর্বের সাথে বিশ্ববাসীর কাছে নিজের প্রিয় বাংলাদেশ, নিজের চেনা সিলেট এবং কুলাউড়াকে রিপ্রেজেন্ট করবেন।


খুব কম বয়সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা নন্দলাল দে এবং সুমাইয়া রিদি আজ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তাদের এই অভূতপূর্ব অর্জনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলায় বইছে আনন্দের জোয়ার। বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরতে যাওয়া কুলাউড়ার এই দুই নক্ষত্রের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ।

ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: