সিলেটে ইঞ্জিন-সংকটে বন্ধ ৫ ট্রেন, দুর্ভোগে লাখো যাত্রী

সিলেটে ইঞ্জিন-সংকটে বন্ধ ৫ ট্রেন, দুর্ভোগে লাখো যাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কুলাউড়া

০৭/০৬/২০২৬ ২১:০১:৪০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ইঞ্জিন-সংকটের কারণে সিলেট রুটের পাঁচটি লোকাল ও ডেমু ট্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার লাখো যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া ও সময়ক্ষেপণসহ নানা ধরনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লোকাল ট্রেন বন্ধ থাকায় ছোট রেলস্টেশনগুলোর কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।


রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, একসময় সিলেট-ঢাকা, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-আখাউড়া রুটে সুরমা, জালালাবাদ ও কুশিয়ারা নামে তিনটি লোকাল ট্রেন চলাচল করত। ইঞ্জিন-সংকটের কারণে প্রায় ছয় মাস আগে সিলেট-ঢাকা রুটের ‘সুরমা মেইল’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে ২০২০ সালের দিকে ইঞ্জিন ও কোচ-সংকটের কারণে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের ‘জালালাবাদ এক্সপ্রেস’ এবং সিলেট-আখাউড়া রুটের ‘কুশিয়ারা লোকাল’ ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া সিলেট-আখাউড়া রেলপথে চালু হওয়া এক জোড়া ডেমু ট্রেনও ইঞ্জিন বিকল হয়ে ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে যায়।


লোকাল ও ডেমু ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোকাল ট্রেনগুলো চালু থাকাকালে স্বল্প খরচে যাতায়াতের সুযোগ ছিল। ছোট-বড় প্রায় সব স্টেশনেই ট্রেনগুলো থামত। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কম খরচে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারতেন। এখন বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় নষ্ট হচ্ছে। যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা না থাকায় ছোট স্টেশনগুলো এখন প্রায় জনশূন্য।


কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, ছকাপন, লংলা ও মনু রেলস্টেশন এলাকার বাসিন্দা দাইম উল্যা, বিলাল মিয়া ও আসাদ আহমদ বলেন, ‘স্টেশনগুলোতে আগে নিয়মিত লোকাল ট্রেন থামত। শত শত মানুষ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে শ্রীমঙ্গলে যেতেন। স্টেশনগুলো সব সময় মুখর থাকত। এখন সেই দৃশ্য শুধুই স্মৃতি। একের পর এক ট্রেন বন্ধ হওয়ায় আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।’


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সিলেট রেলপথে ট্রেনের সময়সূচি বিপর্যয় এখন নিয়মিত ঘটনা। প্রায়ই কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও লাউয়াছড়া এলাকায় ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। অনেক সময় অন্য ট্রেনের ইঞ্জিন এনে বিকল ট্রেন সচল করতে হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন রেলক্রসিংয়ে গেটম্যানের অভাব ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।


রেলসেবার এমন অবহেলার প্রতিবাদে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা থেকে সিলেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন। পরে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কুলাউড়া স্টেশনে এসে নতুন ট্রেন চালু ও বন্ধ ট্রেন পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।


কুলাউড়া স্টেশনমাস্টার রোমান আহমেদ এবং শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার রজত কুমার রায় বলেন, মূল সমস্যা ইঞ্জিন-সংকট। ট্রেনগুলো চালু হলে সিলেট অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত যেমন সহজ হতো, তেমনি আন্তনগর ট্রেনের টিকিটের ওপর চাপও অনেকটা কমে আসত।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর জন্য নতুন ইঞ্জিন প্রয়োজন। ইঞ্জিন সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে বিদেশ থেকে ইঞ্জিন আনতে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা দ্রুত নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’

শাহিন আহমেদ/ ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: