থমকে গেছে ২৩০ কোটি টাকার সিলেট-ছাতক রেলপথ প্রকল্প

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট

থমকে গেছে ২৩০ কোটি টাকার সিলেট-ছাতক রেলপথ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিনিধি,সুনামগঞ্জ

২২/০৮/২০২৬ ১৬:০১:৫৭

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। অথচ দেড় বছরের নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটির কাজ এগিয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ আরো ১০ মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।

২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ আগস্ট। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রকল্পটি অনুমোদন করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ মাস।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছাতক পর্যন্ত রেলপথটির দৈর্ঘ্য ৩৩ কিলোমিটার। এ পথে থাকা ১০টি কালভার্টের মধ্যে চারটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কালভার্টগুলোর কাজ আংশিকভাবে এগিয়েছে। একই সঙ্গে খাজাঞ্চিগাঁও, ছাতক ও আফালাবাদ স্টেশনের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হলেও এগিয়েছে মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে ১৩ কিলোমিটারের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আরও সাড়ে ১০ কিলোমিটারে মাটির কাজ চলছে। তবে বাকি সাড়ে ৯ কিলোমিটার মাটি ভরাটের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

নতুন স্লিপার স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলট্র্যাক ও ব্যালাস্ট পুনর্নির্মাণ এবং স্টেশন আধুনিকায়নসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২০ শতাংশ। প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন ও অন্যান্য সংযোগকারী যন্ত্রাংশ চীন থেকে কেনার কথা রয়েছে। তবে এখনো এসব যন্ত্রাংশের কোনোটি সিলেটে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আরো দশ মাস বাড়ানোর জন্য তারা আবেদন করেছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত দশ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, ৫ কোটি টাকার মালামাল চট্রগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যে সিলেটে এসে পৌছাবে। তবে মাল খালাসের স্বপক্ষে কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে রাজি হননি আবুল কালাম আজাদ।

এ প্রসঙ্গে, সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্প পরামর্শক টিম লিডার (মো. আনার মাহমুদ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে কাজ হয়। বারবার তাগাদা দিলেও তারা কাজটি দ্রুততার সাথে করতে পারেন নি।

অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রকল্পটি বাতিল হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা যায়,১৯৫৪ সালে মিটারগেজ রেললাইন দিয়ে সিলেট-ছাতক রেলপথ চালু হওয়ার পর সিলেট ও সুনামগঞ্জের কৃষি ও শিল্প খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। ছাতকের বাংলাবাজার, খাজাঞ্চিগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা সকালে ট্রেনে করে শাকসবজি ও কৃষিপণ্য সিলেট শহরে নিয়ে যেতেন এবং বিকেলে একই ট্রেনে বাড়ি ফিরতেন। পাশাপাশি ছাতকের বিভিন্ন মিল-কারখানার পণ্য পরিবহনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত এই রেলপথ।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে এ পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ১২ কিলোমিটার রেলরোড এমব্যাংকমেন্ট ও রেলপথ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জরাজীর্ণ রেলপথটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

ছাতকের ৪নং কালারুকা ইউনিয়নের অধিবাসী ইয়ার আলী জানান, এই রোডে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। আগে মাত্র ১২ টাকার টিকেট কেটে ছাতক থেকে সিলেট ট্রেনে যাতায়াত করতে পেরেছি, সেখানে এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদেও নিয়ে সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে সিলেট-ছাতক রেলপথে আবার ট্রেন চলাচল চালু করা হোক।

এর আগে বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ (হাবিব) এমপি গত ৯ মে রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে ট্রেনযোগে সিলেট সফর করেন। ওই দিন সিলেট রেলস্টেশনসংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের সিলেট কার্যালয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে সিলেট অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া প্রকল্পটি বাতিল না করে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দেন প্রতিমন্ত্রী।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad