রংপুরে চারজনকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করার দাবি পুলিশের

রংপুরে চারজনকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করার দাবি পুলিশের

প্রথম ডেস্ক

২৩/০৮/২০২৬ ১৭:৫৫:৩৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রোববার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২২) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১১) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, তারা পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর একে একে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা করে খুনিরা।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ির বাথরুমে গোসল করেন এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর ও অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে লুণ্ঠিত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে খুনিরা ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে ডাকাতির নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি ডিজিটাল আলামত নষ্ট করতে দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে বাড়িতেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসালয় চালাতেন। তার মেয়ে কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।

পুলিশ ধারণা করছে, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নীরব চাকলাদার

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad