কমলগঞ্জে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

২৪ ঘন্টার মধ্যেই ৭ আসামির জামিন

কমলগঞ্জে ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কমলগঞ্জ

০৫/১০/২০২৬ ১৬:৫৩:১৮

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ছাত্রদল নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও ধারালো চাকু দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলাও হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও হত্যাচেষ্টার মতো অভিযোগে মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা এত দ্রুত জামিন পাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর রাতে মৌলভীবাজার-৪ আসনের (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হন কমলগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রোমান আহমেদ (৩০) ও তাঁর সঙ্গী সাব্বির হোসেন (২৩)।

মাগুরছড়া পানপুঞ্জি ও আরিয়ান হোটেলের সামনে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এ সময় ১ নম্বর আসামি জুয়েল আহমদ জুলির নির্দেশে ও প্রত্যক্ষ হামলায় দেশীয় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রোমান ও সাব্বির রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

ঘটনার দুদিন পর, গত ৩ অক্টোবর রোমান আহমেদ বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭/১১৪/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় মামলা (মামলা নং-০২) দায়ের করেন। মামলায় জুয়েল আহমদ জুলি (৩৯), মোহাম্মদ মিলাদ আলী (২৬), রাসেল আহমদ (৪৫), রুমেল মিয়া (২৯), বাবুল মিয়া (৪০), শেলু মিয়া (৪২) ও আলম মিয়াকে (২৫) অভিযুক্ত করা হয়। মামলায় ৩০৭ ধারাসহ গুরুতর অপরাধের ধারাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মামলা রুজু হওয়ার পরদিন, ৪ অক্টোবর, আসামিরা মৌলভীবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (১/২ নম্বর আমল গ্রহণকারী আদালতে) স্বশরীরে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত ‘অবগতিপত্র’-এর মাধ্যমে জামিনের বিষয়টি কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ধারালো অস্ত্রের আঘাত এবং পেনাল কোডের ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা) ও ৩২৬ (গুরুতর জখম)-এর মতো ধারায় দায়ের করা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের আগেই আসামিদের জামিন পাওয়ার খবরে কমলগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়ে এভাবে দ্রুত জামিন পেয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন এবং মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানোর পরও আসামিদের অতি দ্রুত জামিন নিশ্চিত হওয়া আইনশৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচারের জন্য চরম উদ্বেগজনক।


নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad