দিরাইয়ে মৌলবাদী আপত্তির মুখে বন্ধ হল কিশোরীদের ফুটবল ম্যাচ

সাত বছর পর ফের পেছনে হাঁটার লজ্জা!

দিরাইয়ে মৌলবাদী আপত্তির মুখে বন্ধ হল কিশোরীদের ফুটবল ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিনিধি,দিরাই

০৫/১০/২০২৬ ২২:২৪:৫৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

সাত বছর আগে বাধা উপেক্ষা করে দেশের সাত জেলার নারী ফুটবলাররা মাঠ কাঁপিয়েছিলেন দিরাইয়ে। অথচ সাত বছর পর আজ সেই দিরাইয়েই কট্টরপন্থী আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে গেল নারী ফুটবল ম্যাচ। এর ফলে মুখ থুবড়ে পড়ল প্রগতি ও ক্রীড়াচর্চা! ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষা ও 'অশ্লীলতার' দোহাই দিয়ে একটি চরমপন্থী গোষ্ঠীর দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেল কিশোরীদের পূর্বনির্ধারিত ফুটবল ম্যাচ। আয়োজকদের প্রস্তুতি ও সিলেট থেকে জারা স্পোর্টিং ক্লাবের নারী ফুটবলাররা মাঠে উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও খেলা নািয়েই মন খারাপ করে চরম হতাশা ও অপমান নিয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।

আজ সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে 'স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব' ও সিলেটের 'জারা স্পোর্টিং ক্লাব'-এর কিশোরী খেলোয়াড়দের মধ্যে এই প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি ধর্মীয় গোঁড়া গোষ্ঠীর বাধায় শেষ মুহূর্তে খেলা স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা।

অভিযোগ উঠেছে, খেলা বন্ধে তথাকথিত 'দিরাই ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি'র ব্যানারে একদল লোক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের কঠোর দাবি জানায়। সংগঠনের সভাপতি শরিফ উদ্দিন নারীদের খেলাধুলাকে সরাসরি 'মাঠে নাচানাচি ও অশ্লীলতা' বলে আখ্যা দিয়ে দৃষ্টিকটু মন্তব্য করেন।

অথচ আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালেই স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের আমন্ত্রণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী ফুটবলাররা দিরাইয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে খেলে গিয়েছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে একটি বিনোদনমূলক ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও গোঁড়ামির সৃষ্টি করাকে চরম সংকীর্ণতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

খেলার আয়োজক রাকিব আহমেদ ভূঁইয়া ক্ষোভের সঙ্গে জানান, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে পুলিশের পক্ষ থেকে খেলা বন্ধের নির্দেশ আসে। প্রশাসনের এমন ভূমিকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রীড়ামোদী সাধারণ মানুষ। সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের কোচ বশির উদ্দিনও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সুদূর সিলেট থেকে আসা ছোট ছোট কিশোরী ফুটবলাররা ম্যাচ খেলতে না পেরে কান্না ও মন খারাপ নিয়ে ফিরে গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রগতির পথে চলা একটি সমাজকে এভাবে মৌলবাদী শক্তির কাছে জিম্মি হতে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। খেলাধুলায় ধর্ম ও অশ্লীলতার অহেতুক দোহাই টেনে প্রগতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করার এই ঘটনাকে দিরাইয়ের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করছেন তারা।

সার্বিক বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার প্রথম সিলেটকে জানান, দুই পক্ষের বিরোধের কারণে তাদের নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে বলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আয়োজকেরাই ম্যাচটি স্থগিত করেছেন।

প্রশাসনের এমন নমনীয় অবস্থান এবং উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর কাছে ক্রীড়াঙ্গন জিম্মি হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় তরুণ ও নারী সমাজ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad