চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ
সুনামগঞ্জে এবার ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ জুড়ে শুরু হয়েছে আনন্দমুখর উৎসবের আমেজ। জেলার আনাচে-কানাচে এখন শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা ও প্রতিমা গড়ার ব্যস্ততা। এ বছর জেলার ১২টি উপজেলার মোট ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব। মৃৎশিল্পীদের নিপুণ তুলির ছোঁয়া, ঢাকের তাল আর আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতে হাওরবেষ্টিত জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রাণের চঞ্চলতা।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ‘ঘোটকে’ (ঘোড়ায়) এবং গমন করবেন ‘নৌকায়’। শাস্ত্র মতে দেবীর ঘোড়ায় আগমন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে। আবার দেবীর নৌকায় গমন অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত। এটি বসুন্ধরাকে শস্য-শ্যামলা করে তোলা এবং জল ও ফল ফলনের সুসংবাদ নিয়ে আসে, যা হাওর অঞ্চলের কৃষিনির্ভর জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের শুভ সূচনা ঘটবে। মূল উৎসব শুরু হবে ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে। এরপর ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের।
এদিকে প্রতিমা নির্মাণে দিনরাত কাজ করছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে মূর্তি বানানোর কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রফুল্ল চন্দ্র পাল ও ঝুটন চন্দ্র পাল জানান, কাঁচামালের দাম ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে লাভ আগের চেয়ে কমে গেলেও দেবীর মূর্ত গড়ার আনন্দ ও ভক্তি তাঁদের শত কষ্টের মধ্যেও শান্তি দেয়।
উৎসবকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় আচারই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিতেও যুক্ত হয়েছে বাড়তি গতিশীলতা। ঢাকি, আলোকসজ্জাকারী, ফুল ব্যবসায়ী ও পোশাকের দোকানগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা।
সুনামগঞ্জের রায়পাড়ার বাসিন্দা প্রীতম দেব ও বিশাল রায় জানান, হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যগত অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে শুভশক্তির জয় উদযাপনে সবাই ঐক্যবদ্ধ।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং জেলা প্রশাসন সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ পদ দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার বাপ্পী প্রথম সিলেটকে জানান, প্রতিটি মণ্ডপে নৈশপ্রহরী, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক একটি মনিটরিং টিম কাজ করবে।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন (পিপিএম) প্রথম সিলেটকে জানান, উৎসব শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সাধারণ পোশাকের পুলিশ, মোবাইল ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক সম্প্রীতি ও কড়া নিরাপত্তার সমন্বয়ে ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব পালনে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত সুনামগঞ্জ।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: