টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাড়তে পারে দল, নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আইসিসি। বর্তমানে ৯টি দল নিয়ে প্রতিযোগিতাটি চললেও পরের চক্রে টেস্ট খেলুড়ে সব দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে ১২ দলের টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা ভাবা হচ্ছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রে ১২ দলের কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দেশকে এই প্রতিযোগিতায় সুযোগ দেওয়ার চিন্তা থেকেই এমন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে গ্রিনবার্গ বলেন, আগামী দুই বছরের জন্য ১২ দলের কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে প্রতিযোগিতার অংশ করার লক্ষ্য থেকেই এই সংখ্যা নির্ধারণের যুক্তি রয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যে সহজ হবে না, সেটিও স্পষ্ট করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের এই কর্মকর্তা। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন ও একটি দলকে দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তুত করা—দুই ক্ষেত্রেই বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন।
জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটের অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক মানের দিক থেকে এখনও পিছিয়ে। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা সমস্যা। এখনো নিজেদের দেশে টেস্ট আয়োজনের সুযোগ না থাকায় তাদের অন্য দেশের ভেন্যু ব্যবহার করতে হয়।
এই বাস্তবতায় টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করেছেন গ্রিনবার্গ। তিনি বলেন, কোনো ক্রিকেট বোর্ড যদি নিয়মিত টেস্ট আয়োজন করে পর্যাপ্ত আয় করতে না পারে, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে লোকসান বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
শুধু ম্যাচ আয়োজনের খরচই নয়, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য খেলোয়াড় তৈরি করতেও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। একটি দলকে টেস্ট মানের ১১ জন খেলোয়াড় দিয়ে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন ব্যবস্থায় অর্থ খরচ করতে হয়।
গ্রিনবার্গের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশও নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে যেসব দেশের নিজেদের মাঠে আন্তর্জাতিক টেস্ট আয়োজনের আর্থিক সক্ষমতা কম, তাদের জন্য ভবিষ্যতে বিদেশের মাটিতে বেশি টেস্ট খেলার মডেল বেছে নিতে হতে পারে।
এ কারণেই প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একে অপরের দেশে নিয়মিত সিরিজ আয়োজনের বর্তমান ব্যবস্থা কিছু দেশের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য ডব্লিউটিসির পরবর্তী চক্র শুধু প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ার বিষয় নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো কেমন হবে সেটিও নির্ধারণ করতে পারে।
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: