আতঙ্কে নীরব এলাকাবাসী
শ্রীমঙ্গলে তিন মেয়েসহ শুঁটকি ব্যবসায়ী অনিল দাস নিখোঁজ
দোকানপাট যেমন ছিল, ঠিক তেমনই পড়ে আছে। কিন্তু বাজারের পুরোনো ব্যবসায়ী অনিল দাস এবং তাঁর তিন মেয়ে হঠাৎ করেই নিখোঁজ। তিন-তিনটি কন্যাসন্তানকে নিয়ে একজন অভিভাবক এভাবে কোথায় উধাও হয়ে গেলেন—তা নিয়ে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও অজানা আতঙ্কে নীরবতা অবলম্বন করছেন স্থানীয়রা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশিদ্রোন ইউনিয়নের (৩ নম্বর ওয়ার্ড) সাতগাঁও বাজারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাতগাঁও বাজারের দীর্ঘদিন ধরে শুঁটকির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন অনিল দাস। তাঁর এক মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল পার্শ্ববর্তী সিন্দুরখান ইউনিয়নের আউয়ই শাদাতপুর গ্রামের প্রভাবশালী মধু মিয়ার এক ভাতিজা। বিষয়টি জানতে পেরে অনিল দাস তাঁর মেয়েকে বুঝিয়ে অভিযুক্ত বখাটের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বন্ধ করতে বলেন। বাবার কথা অনুযায়ী মেয়েটি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেই বখাটে।
অভিযোগ উঠেছে, এর জের ধরে স্থানীয় একটি ব্রিজের ওপর অনিল দাসকে প্রকাশ্যে ধরে বেধড়ক মারধর ও চড়-থাপ্পড়-কিল-ঘুষি মারে প্রভাবশালী ওই নেতার ভাতিজা। এক প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হওয়ায় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি নির্যাতিত ব্যবসায়ী কিংবা স্থানীয়রা।
মারধর ও হুমকির ঘটনার কিছুদিন পরই তিন মেয়েকে নিয়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে আকস্মিক নিরুদ্দেশ হয়ে যান অনিল দাস। তিনি ঠিক কোথায় আছেন বা তাঁদের পরিণতি কী হয়েছে, তা নিয়ে পুরো এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বখাটের অত্যাচার ও সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে তিনি বাধ্য হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন। আবার একাংশের আশঙ্কা, প্রভাবশালী চক্রটি তাঁদের কোনো ক্ষতি বা গুম করে থাকতে পারে।
ঘটনার পর থেকে সাতগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী ও প্রতিবেশীদের মনে চরম ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে অনিল দাসের প্রতি এই অন্যায় ও নির্যাতন হলেও ভয়ে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করতে সাহস পাননি। বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ না খোলায় কিংবা থানায় কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ না করায় পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানা গেছে।
একদিকে একজন বাবা ও তাঁর তিন কন্যার হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে বিচারহীনতার ভয়ে পুরো এলাকার নীরবতা—সামাজিক নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার বাস্তবতা নিয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না প্রথম সিলেটকে জানান,ঘটনাটি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ কিংবা জিডি করা হয় নি।
শাহিন আহমেদ/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: