জৈন্তাপুরে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও শপথ পাঠ
‘যে মাদক অফার করে, সে কখনও বন্ধু হতে পারে না’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সিলেটের জৈন্তাপুরে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও শপথবাক্য পাঠ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেট। এতে সহযোগিতা করে জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক এবং জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জৈন্তাপুর তৈয়ব আলী কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ রোহিনী রঞ্জন দে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুনন্দা রায় বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এর ভয়াবহ প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়ে। শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মাদকের প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কোনো বন্ধু মাদক গ্রহণে উৎসাহিত করলে তাকে অনুসরণ না করে বিষয়টি পরিবার ও শিক্ষকদের জানাতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
জৈন্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, মাদকাসক্তি ব্যক্তি ও সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়াতে পারে। মাদক থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ রোহিনী রঞ্জন দে বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই হবে না, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভায় মাদকাসক্তির বিভিন্ন কারণ ও ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তির পেছনে কৌতূহল, বন্ধুবান্ধবের প্রলোভন বা চাপ, পারিবারিক অশান্তি, নৈতিক শিক্ষার অভাব, মানসিক চাপ, মাদকের সহজলভ্যতা এবং অভিভাবকের অবহেলাসহ বিভিন্ন কারণ কাজ করতে পারে।
মাদকাসক্তি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, মাদকের কারণে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পারিবারিক অশান্তি, অর্থনৈতিক সংকট এবং অপরাধপ্রবণতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শুরুতেই সচেতনতা সৃষ্টি করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের পরিদর্শক মোহাম্মদ চান মিয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কলেজের সহকারী শিক্ষিকা ঈশিতা ঘোষ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রভাষক নুরুল ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী অধ্যাপক শাহআলম, প্রভাষক মাকসুদা লিলি, ইন্সট্রাক্টর ইঞ্জিনিয়ার হারুণুর রশিদ, বিল্লাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মনির উদ্দিন, মোঃ ইয়াসিনসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
আলোচনা সভার শেষে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে শিক্ষার্থীদের শপথবাক্য পাঠ করান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক বিপ্লব কুমার মোদক।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, মাদক থেকে দূরে থাকা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সাইফুল ইসলাম বাবু / রত্না বাউড়ী/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: