সিলেটে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর!
সিলেট বিভাগজুড়ে ঘাতক ব্যাধি হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের প্রাণহানি কোনোভাবেই সামাল দিতে পারছে না আঞ্চলিক স্বাস্থ্য প্রশাসন। দিন দিন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠলেও মাঠপর্যায়ে প্রতিরোধমূলক সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর নজরদারির অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগজুড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে চলতি বছরে কেবল সিলেট বিভাগেই হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল অন্তত ১৮৫ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ অক্টোবরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দিনে প্রাণ হারানো দুই শিশুর বয়সই এক বছরের কম। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯ মাস বয়সী এক শিশু সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ৬ মাস বয়সী অন্য এক শিশু সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাণ হারায়। দীর্ঘ সময় ধরে হামের ভয়াবহ বিস্তার চললেও আঞ্চলিক স্বাস্থ্য প্রশাসনের রোগ প্রতিরোধে চরম শিথিলতা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৭৫ জন এবং সুনামগঞ্জে ৬৭ জন শিশু মারা গেছে। এছাড়া হবিগঞ্জে ২৮ এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে ১০ জনের মৃত্যু বলা হলেও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মারা গেছে সিংহভাগ শিশু, যা মূলত সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও প্রতিষেধক কর্মসূচির ধীরগতিকেই নির্দেশ করছে।
একদিকে মৃত্যু থামছে না, অন্যদিকে হাসপাতালেও শয্যা সংকট চরম রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২২৯ জন শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল, শামসুদ্দিন হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৫২ জন শিশু মৃত্যুর সাথে লড়ছে। বছরের শুরু থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে ল্যাব-পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ হাজার ৯৫ জনে।
সচেতন মহল ও স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, বর্ষা পেরিয়ে বছর শেষের দিকে গড়ালেও সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদাসীনতা ও ঢিলেঢালা টিকাদান কার্যক্রমই শিশুমৃত্যুর এই দীর্ঘ মিছিলে জ্বালানি জুগিয়েছে। এখনই সমন্বিত বিশেষ জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা জোরদার না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
রত্না বাউরী/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: