অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম
সুনামগঞ্জের লায়েছ ভূঁইয়া কলেজের প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত
বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ এবং তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডি। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়।
গভর্নিং বডি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক মো. শাহীন উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজ অ্যাকাউন্টে জমা, তথ্য গোপন ও ভুয়া রশিদ তৈরির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
গভর্নিং বডি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের শিক্ষাবোর্ডে যাওয়ার কথা বলে তিনি বিদ্যাপীঠ ত্যাগ করেন এবং এরপর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে জামিন চাইতে গেলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। এই গ্রেফতার ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় অভিযোগপত্রের বিষয়টি তিনি পরিচালনা পর্ষদের কাছে গোপন রাখেন। এছাড়াও চলতি বছরের ৪ জুলাই বিজ্ঞানাগারের মালামাল কেনাকাটা বাবদ ‘স্কয়ার সায়েন্টিফিক’ কোম্পানির ৫৮ হাজার টাকার একটি যৌথ চেক তাকে দেওয়া হয়। তবে তিনি তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে না দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে আত্মসাৎ করেন।
গভর্নিং বডির একজন সদস্য জানান, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬১ হাজার টাকা প্রদান করে বাকি ৭ হাজার টাকা প্রতিষ্ঠানের আয় খাতে জমা দেননি। এছাড়া চলতি বছরের ২ জুন কলেজ শাখা থেকে স্কুল শাখার প্রয়োজনে নেওয়া ৩১ হাজার টাকাও তহবিলে জমা করেননি। গত ১৩ সেপ্টেম্বর অডিট শুরু হলে তিনি পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়াই নেত্রকোনার কলমাকান্দা থেকে নতুন ১০টি রশিদ বই ছাপিয়ে আনেন। পুরোনো রশিদ গোপন করে কম টাকার হিসাব দেখানোর জন্য তিনি এ কাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়, যাতে কয়েকজন কর্মচারীও যুক্ত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) গভর্নিং বডির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া জানান, উপস্থাপিত সব অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে পর্যাপ্ত দলিল ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রীতম দাস/ নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: