হবিগঞ্জে প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, অপেক্ষা উৎসবের

হবিগঞ্জে প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড়, অপেক্ষা উৎসবের

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

০৮/১০/২০২৬ ১৪:৪০:৪১

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

শারদীয় দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। দেবী দুর্গার আগমনের অপেক্ষায় এখন উৎসবের রঙে সেজে উঠছে হবিগঞ্জ। শহর থেকে গ্রাম, বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় পড়ছে তুলির শেষ আঁচড়, কোথাও চলছে রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ। আবার কোনো মণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাজ ও আলোকসজ্জার কর্মীরা।

শারদীয় দুর্গোৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজে ছুটছেন কারিগররা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করে মণ্ডপে স্থাপন করতে হবে, তাই এখন দম ফেলারও যেন সময় নেই তাদের।

হবিগঞ্জ শহর ও বিভিন্ন উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কোথাও দেবী দুর্গার মুখাবয়বের নিখুঁত কাজ করছেন কারিগর, কোথাও চলছে রং করার কাজ। আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার শাড়ি, অলংকার ও অন্যান্য সাজসজ্জা নিয়ে।

কারিগরদের ব্যস্ততা যেন চোখে পড়ার মতো। কেউ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর মুখের অভিব্যক্তি, কেউ ব্যস্ত পোশাক পরাতে। কেউ আবার প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে করছেন শেষ মুহূর্তের কারুকাজ।

কারিগররা জানান, প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হলেও রং, পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজে সময় লাগে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে তাই রাত-দিন কাজ করতে হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

জেলা পূজা ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমার শাড়ি, অলংকার ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়ে যাবে। এরপর পূজার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে মণ্ডপগুলো।

এবার হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ৬৬৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে শুরু হয়েছে সাজসজ্জার কাজ। কোথাও তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ, কোথাও চলছে আলোকসজ্জা। মণ্ডপ ঘিরে আশপাশের এলাকাতেও তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

শুধু মণ্ডপ সাজানো নয়, পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটাতেও ব্যস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কেনাকাটাও চলছে। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে শহর থেকে গ্রাম- সবখানেই বাড়ছে মানুষের ব্যস্ততা।

পূজামণ্ডপগুলোয় প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা। শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা গেছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। পূজাকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতেও বেড়েছে মানুষের উপস্থিতি। অনেক মণ্ডপে স্থানীয় তরুণ-যুবকদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। পূজার দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের সহযোগিতা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন তারা।

জেলা পূজা ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজন দাশ বলেন, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য অতিন দত্ত চৌধুরী পাপন বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে রং, পোশাক ও অলংকার পরানোর কাজ। শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপনে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

হবিগঞ্জ পৌর পূজা ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ডা. অনুজ দাশ বলেন, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এবার ৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩৫টি সার্বজনীন এবং একটি ব্যক্তিগত মণ্ডপ। পূজার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি পূজা কমিটি ও মণ্ডপের পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন।

শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় বিশেষ নজরদারি রাখা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা নাশকতা যাতে ঘটতে না পারে, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মণ্ডপে ছয়জন করে আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি, জেলা ও পৌর পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যেন নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, বিষয়টি প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad