সুনামগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে নেই দুই ইউনিয়নে
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫৯ বছর পেরিয়ে গেলেও নির্মাণ হয়নি ইউনিয়ন পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন। একই অবস্থা চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদেরও। জরাজীর্ণ ঘরেই চলছে দুই ইউনিয়ন পরিষদের সেবাদান কার্যক্রম।
উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ১ নম্বর বংশীকুন্ডা উত্তর ও ২ নম্বর বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের দাপ্তরিক ও আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কমপ্লেক্স কার্যালয় রয়েছে। তবে মধ্যনগর ও চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে।
উপজেলার ৪ নম্বর মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদটি ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এবং ৩ নম্বর চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদেরও নিজস্ব কমপ্লেক্স ভবন নেই। দুটি ইউনিয়ন পরিষদই নামেমাত্র টিনশেডের ঘর থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রমসহ সব ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যনগর বাজারের দক্ষিণ পাশে সদর ইউনিয়ন পরিষদ এবং মধ্যবাজারে নামেমাত্র কয়েকটি কক্ষে দুই ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ্য, চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের জন্য নির্ধারিত রামদীঘাস্থ দত্তপাড়া মৌজায় দাগ নম্বর ৯৫, জোত নম্বর ৭০ ও খতিয়ান নম্বর ২০-এর রেকর্ডীয় ভূমি রয়েছে ২৯ শতক। ওই জমিতে ভবনগুলো পরিত্যক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মধ্যনগর বাজারের অস্থায়ী কার্যালয় থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের সেবাদান কার্যক্রম চলছে। এতে চামরদানী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রামের ২৩ হাজারের বেশি সেবাগ্রহীতা বাসিন্দাকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের কর্মরত সচিব মো. লিটন মিয়ার সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট কমপ্লেক্স ভবনের চাহিদা তুলে ধরে এলজিইডির কাছে নথিপত্র দাখিল করেছেন। তবে পরিষদের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে ২৯ শতক, যা কমপ্লেক্স ভবনের জন্য চাহিদার তুলনায় ১ শতক জমি কম। দ্রুত কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি ইউনিয়নবাসীর জায়গার সংকট ও ভোগান্তি নিরসনের জোর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সচিব মো. রুহুল আমীনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, পরিষদে জায়গার সংকট রয়েছে। এ কারণে পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাজারে মাত্র ৫ শতক জায়গার মধ্যে একটি ঘরে পরিষদের কার্যক্রম চলছে। তবে এর একমাত্র কারণ জায়গার সংকট। কমপ্লেক্স ভবনের জন্য ৩০ শতক জায়গার প্রয়োজন হলেও তাদের তা নেই।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একসঙ্গে তো সবগুলো করা সম্ভব নয়। তবে ক্রমান্বয়ে সব ইউনিয়ন পরিষদই কমপ্লেক্সের আওতায় আসবে।
পূজা বাড়াইক/প্রসি-২৬
মন্তব্য করুন: