উদ্বোধনের অপেক্ষায় ক্ষয়ে যাচ্ছে সরকারি স্থাপনা, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় ক্ষয়ে যাচ্ছে সরকারি স্থাপনা, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

১২/১০/২০২৬ ১৩:৫১:১০

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

হবিগঞ্জের বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন। প্রায় ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক স্টেশন ভবন। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হলেও চালু হয়নি স্টেশনটির কার্যক্রম। ফলে একদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনা, অন্যদিকে সন্ধ্যা নামলেই স্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আড্ডা বসার অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে স্টেশন ভবন। ভাঙছে জানালার কাচ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অবকাঠামো। প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে ধান শুকানোর কাজে। স্টেশন এলাকায় অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর নির্জন স্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আনাগোনা বাড়ে। দেখভালের ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি স্থাপনাটি কার্যত অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নোমান, সাব্বির ও সোহান জানান, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আড্ডা জমে। স্টেশনটি চালু না থাকায় জায়গাটি অনেকটা নির্জন হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, নিয়মিত ট্রেন চলাচল ও যাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে স্টেশন এলাকায় মানুষের চলাচল বাড়বে। একই সঙ্গে মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ করা এবং স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

জানা গেছে, ৭৮ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬৮ টাকা ব্যয়ে স্টেশনটির নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। মেসার্স পাইওনিয়ার এন্টারপ্রাইজ ২০২২-২৩ অর্থবছরে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে ভবন নির্মাণের পরও স্টেশনটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো কোনো কাজে আসছে না।

ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত সাটিয়াজুরী রেলস্টেশনটি একসময় আশপাশের শতাধিক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। এ স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী যাতায়াত করতেন। কৃষিপণ্য ও ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনেও ছিল স্টেশনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে স্টেশনটি বন্ধ ঘোষণা করা হলে এলাকাবাসী আন্দোলনে নামেন। তাদের আন্দোলনের মুখে সাময়িকভাবে চালু করা হলেও পরবর্তী সময়ে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি অচল থাকায় বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলার যাত্রী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিকল্প পরিবহনে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় গুনতে হচ্ছে।

স্টেশনটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ হিসেবে ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি এটিকে আধুনিক মডেল স্টেশন হিসেবে সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও ট্রেন চলাচল ও স্টেশন পরিচালনা শুরু না হওয়ায় উদ্যোগটির সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বাহুবল উপজেলা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, সাটিয়াজুরী রেলস্টেশন দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু এবং আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, সাটিয়াজুরী স্টেশনটি ‘ডি-ক্লাস’ হওয়ায় অল্প জনবল দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব। তবে এ রুটে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় তা পুনরায় চালু না হলে স্টেশনটির কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।

রত্না বাউরী/প্রসি-২৬

মন্তব্য করুন:

Led Bottom Ad
Led Bottom Ad