পরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ
মৌলভীবাজারে মিরকো ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি ও অনিয়ম
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'মিরকো ফাউন্ডেশন'-এর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অননুমোদিত কার্যক্রম পরিচালনা, পরিচালনা পর্ষদের একাধিক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি, সরকারি চাল উত্তোলন, ওষুধ বিতরণে অনিয়ম এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্য করার গুরুতর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক খিজির মুহাম্মদ জুলফিকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মিরকো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে মাদ্রাসায় খাবার বিতরণের কথা বলে ২,০০০ কেজি সরকারি জিআর চালের আবেদন ও উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া সংস্থার চেয়ারম্যান মিনারা বেগম, নির্বাহী পরিচালক এস এম মেহেদী হাসানসহ ছয়জন কর্মকর্তা এবং মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম শেফুলের অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত চক্ষু শিবিরের পর ২১ সেপ্টেম্বর রোগীদের ফলোআপ কার্যক্রম কোনো অনুমোদন বা সংস্থার সমন্বয় ছাড়া নিজস্ব ভাইদের নিয়ে পরিচালনা। পাশাপাশি প্রায় ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৭০ হাজার টাকার ওষুধ বিতরণের ভুয়া দাবি করা, ওষুধ হস্তান্তরে অনিয়ম এবং হিসাব ও অনুমোদনে অসচ্ছতা পাওয়া গেছে। তা ছাড়া, সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এস এম মেহেদী হাসানের লেখা একটি নিবন্ধ লন্ডন থেকে প্রকাশিত "স্বচিন্তা" ম্যাগাজিনে নিজের নামে প্রকাশ করে লেখার স্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
নোটিশে খিজির মুহাম্মদ জুলফিকারকে আগামী ১৮ অক্টোবর ২০২৬ (রবিবার) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিনারা বেগমের নিকট লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে সন্তোষজনক জবাব না পেলে সংস্থাটির গঠনতন্ত্র ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। ঘটনাটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজার সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর নিকট অনুলিপি আকারে পাঠানো হয়েছে।
নীরব চাকলাদার/ প্রসি-২০২৬
মন্তব্য করুন: