মানুষের ভালোবাসায় মুক্ত আকাশে ২৫ বালিহাঁস
শীতের হাওয়ায় নীরব বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে প্রকৃতিতে। সেই বার্তা সাথে করে দূর সাইবেরিয়া থেকে ছুটে এসেছে আমাদের অতিথি—বালিহাঁসেরা। প্রতিবারের মতো এবারও তারা আশ্রয় নিয়েছে নবীগঞ্জের হাওর-বিলের বুকে। কিন্তু তাদের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানানোর আগেই নেমে এসেছে নির্মমতার ছায়া—শিকারিদের ফাঁদ। তবুও শেষ পর্যন্ত জিতেছে জীবন, জিতেছে মানবিকতা। দুই দিনে শিকারিদের হাত থেকে ২৫টি বালিহাঁস উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। তারা আবার ফিরে গেছে সেই বিস্তীর্ণ হাওরে, মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়তে।
প্রতি বছরই এ অতিথি পাখিরা আসে, নিয়ে আসে প্রকৃতির গান। অথচ তাদের স্বাগত জানানোর বদলে কিছু মানুষ বন্দুক তাকায়, করে ফাঁদ পাতার নোংরা খেলা। হাঁসের ডানার শব্দ যেখানে শান্তির বার্তা হওয়া উচিত, সেখানে তা হয়ে ওঠে বাঁচা-মরার লড়াই। কিন্তু এবার হাওরের মানুষ নীরব থাকেনি। বাজারে বালিহাঁস বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা ছুটে গেছে বন বিভাগকে জানাতে। আর সেই উদ্যোগেই প্রাণ পেয়েছে ২৫টি ছোট্ট হৃদস্পন্দন।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা অভিযানে সালামতপুর ও দেবপাড়া বাজার থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি বালিহাঁস। এরপর বুড়িনাও এলাকা থেকে আরও ৪টি। শিকারিরা পালাতে চাইলে—পাখিদের মুক্ত জীবন নিশ্চিত করে ফিরে গেছে প্রশাসন। আর সেই মুহূর্তে, জলাশয়ে যখন তারা ডানা ঝাপটে উড়তে শুরু করে—নবীগঞ্জের আকাশ যেন আবার ফিরে পায় তার শান্তি, তার সৌন্দর্য।
অভিযানে ছিলেন ইউএনও রুহুল আমিন, বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম ও মাহমুদ হোসেনসহ আরও অনেকে। তাদের কঠোর পদক্ষেপে শিকারিদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বন বিভাগ বলছে—এবার শুরু থেকেই তারা তৎপর থাকবেন। আর মানুষও পাশে আছে। প্রকৃতি যে আমাদেরই সন্তান—এ উপলব্ধি জোরালো হয়ে উঠছে।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: