শাহজালালের দরবারে দাঁড়িয়ে লুনার নির্বাচনী পথচলা
আলো ফিরে আসবে—‘ইলিয়াসের পথেই লুনা’ হয়ে
সময়টা ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। এক সকাল, আরেকটি ব্যস্ত ঢাকা শহর—কিন্তু সেটি ছিল সিলেটের মানুষের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘশ্বাসের দিন। নিজের ঘর থেকে চালকসহ নিখোঁজ হন জননেতা এম ইলিয়াস আলী। সেদিন থেকে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যাননি; শূন্য হয়ে গিয়েছিল সিলেট-২ আসনের রাজনৈতিক হৃদস্পন্দন।
বছর গড়িয়ে গেছে—দশকও পেরোল। কিন্তু এখনও পথের মোড়, চায়ের টেবিল, মানুষের চোখের কোণে ভাসে সেই প্রশ্ন—“ইলিয়াস আলী কোথায়?”
তার পদচারণায় জেগে ওঠা মাঠগুলোয় আজও শোনা যায় অজস্র হৃদয়ের ব্যথা, স্মৃতির ঢেউ। সেই শূন্যতার মাঝেও ধীরে ধীরে দৃঢ় হয়ে ওঠেন একজন নারী—তাহসিনা রুশদীর লুনা। শোকের কাছে প্রথমে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি, স্বীকার করেছেন নিজের দুর্বলতা। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস আর অপেক্ষা তাকে ফিরে এনেছে রাজনীতির মাঠে। যেন নিস্তব্ধ সন্ধ্যায় হঠাৎ বেজে ওঠা আজানের ধ্বনি—আশার দিকে ডেকে আনা আলো।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট-২ আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করল, সেই তালিকায় উচ্চারিত হলো লুনার নাম। নেতাকর্মীদের চোখে তখন শুধু আনন্দ নয়, ফিরে পাওয়ার পরিতৃপ্ত অশ্রুও। মিষ্টি বিলানোর মুহূর্তগুলোয় দেখা মিলল নতুন সুরের—আশার সুর, স্বপ্নের প্রতিজ্ঞা।
আর সেই প্রতিজ্ঞাকেই বাস্তবের পথে প্রথমবারের মতো হাঁটানো হলো আজ। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকাল—মর্যাদার মাটিতে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র দরবারে দাঁড়িয়ে লুনা শুরু করলেন তার নির্বাচনী যাত্রা। রাজনৈতিক প্রচারণা বলার আগে, এটি যেন ছিল এক নিঃশব্দ দোয়া— একজন প্রিয়জনের ফিরে আসার, একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের, জনতার আস্থার সম্মান রাখার।
মহিলা দলের নেতাকর্মীরা পাশে—হৃদয়ে আবেগ, চোখে দৃঢ়তা। মাজারের দরবারে মাথা নত করে মোনাজাত শেষে লুনা বললেন, “মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি। ইলিয়াস আলীর অপূর্ণ কাজগুলো শেষ করা—এটাই আমার অঙ্গীকার।”
স্মৃতি আজও ভারী। অপেক্ষা আজও শেষ হয়নি। তবুও সিলেট-২-এর মানুষ আবারও হাঁটছে—স্বপ্ন বুকে নিয়ে। তাদের আশা, শূন্যতার জায়গায় এবার আলো ফিরে আসবে—‘ইলিয়াসের পথেই লুনা’ হয়ে।
রোদ্দুর রিফাত
মন্তব্য করুন: