জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটে বাড়ছে প্রবাসীদের ফেরার ঢল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে প্রবাসীদের দেশে ফেরার প্রবণতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব প্রবাসী নির্বাচনী পরিবেশে নতুন গতি আনছেন। দীর্ঘদিন পর স্বজনদের কাছে ফিরে আসায় পরিবারগুলোতেও দেখা যাচ্ছে আনন্দের আমেজ।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত দুই মাসে কয়েক হাজার প্রবাসী সিলেটে পৌঁছেছেন। নির্বাচনের সময় যত কাছাকাছি আসছে, এই সংখ্যা ততই বাড়ছে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বলছে, অনেক প্রবাসী কয়েক সপ্তাহ আগেই টিকিট বুকিং দিয়েছেন। নির্বাচনের পরপরই রমজান ও ঈদুল ফিতর থাকায় অনেকে একটানা দীর্ঘ সময় দেশে অবস্থানের পরিকল্পনা করছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই প্রবাসীদের মধ্যে দেশে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়। তবে কর্মব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতায় অনেকে তখন ফিরতে পারেননি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই আগ্রহ এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠেও প্রবাসীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। দেশে ফিরেই অনেকে নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। এতে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন—এমন ঘোষণায় প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দলীয় নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আরও প্রবাসী দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এবার ভোটাধিকার প্রয়োগেও প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলের প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রবাসীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীদের দেশে ফেরার চাপ বেশি ছিল। কিছুটা বিরতির পর নির্বাচনী আমেজে আবারও ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে লন্ডন–সিলেট রুটে কয়েক দফা টিকিট সংকট দেখা গেছে।
এবারের নির্বাচনে সিলেট অঞ্চলে একাধিক প্রবাসী প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমদ প্রার্থী হয়েছেন। পাশাপাশি সিলেট-৩ আসনে মোস্তাকীম রাজা ও মইনুল বাকেরসহ প্রায় এক ডজন প্রবাসী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এতে সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: