মানব পাচার চক্রের শক্তিশালী ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে সিলেট বিভাগ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও নানামুখী তৎপরতা সত্ত্বেও সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ এখন আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গত ৩ বছরে এই অঞ্চল থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে পাচার করেছে, যার মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ৫৩০ জনকে।
বিজিবি ও গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, জকিগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজার সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশু পাচার এবং বিমানবন্দর ব্যবহার করে ‘ভিজিট ভিসা’র আড়ালে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে লোক পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনুসন্ধানে এই পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে সাবেক সংসদ সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন ‘ফাইভ স্টার এন্টারপ্রাইজ’ এবং সিলেটের জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজার এলাকার অন্তত ১২টি ট্রাভেল এজেন্সির নাম পাচারের সাব-এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে রিমান্ডে থাকা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা জনপ্রতি ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে লিবিয়া-ইতালি ও মালয়েশিয়া রুটে অবৈধভাবে শ্রমিক পাচার করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে; এছাড়া বিমান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান শিশির, শিপন আহমেদ এবং ‘গেম ঘর’ পরিচালক মাওলানা আব্দুল আজিজের নামও এই পাচার প্রক্রিয়ায় জড়িত হিসেবে সামনে এসেছে। সিলেট বিভাগীয় মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ৪৫০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও সাক্ষীর অভাবে সাজার হার ১ শতাংশের নিচে হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, যার ফলে গোলাপগঞ্জের আহমেদ রাজু ও ফাহিম আহমদের মতো অনেকের সলিল সমাধি হলেও থামছে না এই মরণযাত্রা।
সিলেটের পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় এখানে সক্রিয় বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন স্থানীয় দালালদের এই শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারলে এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হয়ে পড়বে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: