দোয়ারাবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ চৌধুরীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
আজ ৩০ মার্চ, দেশমাতৃকার অকুতোভয় সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আদর্শ শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ চৌধুরীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর চৌধুরী বাড়ির সন্তান তিনি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী এই গুণী মানুষটি তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে দেশপ্রেম, সততা ও জনসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
১৯৭৫ সালের দিকে তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ফুড ইন্সপেক্টর হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে নিজ এলাকার শিক্ষা বিস্তারে চামতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। শুধু শিক্ষা নয়, অবহেলিত জনপদের যোগাযোগ ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮১ সালে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় নিজ এলাকায় সরকারি পোস্ট অফিস (ডাকঘর) নিয়ে আসেন এবং নামমাত্র বেতনে সেখানে কর্মরত ছিলেন।
আবুল কালাম আজাদ চৌধুরীর জীবন ছিল দেশ ও মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধের এক অনন্য উপাখ্যান। বর্তমান সময়ে যখন ইউরোপ-আমেরিকার আশায় হাজারো তরুণ সাগরে জীবন বাজি রাখছে, তখন বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকে ব্রিটিশ সরকারের ‘ভাউচার’ বা স্পন্সরশিপ পেয়েও তিনি বিদেশের হাতছানি উপেক্ষা করেছিলেন। পাকিস্তান আমলের উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও কেবল দেশপ্রেমের টানে তিনি প্রবাস জীবন বেছে নেননি। জীবনের শেষভাগে এসে পূর্বপুরুষের জমিজমা ও কৃষি কাজের সাথেই নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন নিভৃত পল্লীতে। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার ও এলাকাবাসী এই মহান বীরের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং তাঁর আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: