ক্ষতির শিকার ২৯৫ হেক্টর জমি
সুনামগঞ্জে অকাল বৃষ্টিতে হাওরে ডুবেছে বোরো ধান
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাতে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২৯৫ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলা এ বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন হাওরে পানি জমে থাকে। ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন অকাল বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। বোরো ধানই তাদের সারা বছরের প্রধান ভরসা হওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে মোট ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন হাওর ও বিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ২৯৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে টগার হাওরে, যেখানে প্রায় ৮০ হেক্টর জমির ধান ডুবে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক হাওরে এখনো পানি জমে রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি বিভাগের হিসাবের তুলনায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
মধ্যনগরের সাড়ারকোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, “এ সময় এমন বৃষ্টি জীবনে দেখিনি। বৃষ্টির পানি আমাদের ফসলের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, তার চাষ করা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং এখনো জমিতে পানি রয়েছে।
ধর্মপাশার বেখইজুড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, “আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। আবার বৃষ্টি হলে ক্ষতি আরও বাড়বে।”
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অকাল বৃষ্টিতে কিছু হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, হাওর এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।
তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: