দিরাইয়ে সাংবাদিক মিঠুকে হেনস্তা ও অপপ্রচারের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক কামরুল হাসান মিঠুর ওপর ন্যাক্কারজনক হেনস্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একজন গণমাধ্যমকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে ‘চোর’ সাজিয়ে ভিডিও ভাইরাল করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের মকসদপুর গ্রামে একটি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি এই হেনস্তার শিকার হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ‘সুনামগঞ্জের সময়’ পত্রিকার প্রতিনিধি কামরুল হাসান মিঠু সংবাদ সংগ্রহ করতে গ্রামে প্রবেশ করলে কিছু ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করে। তিনি নিজের পেশাগত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করলেও পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিক মিঠু ইতিপূর্বে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারী মিজানুর রহমান রিয়াদ এবং চোরাচালান চক্রের সদস্য তাহমিম চৌধুরীর অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। সেই আক্রোশ থেকে তারা পরিকল্পিতভাবে মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি খণ্ডিত ভিডিও ধারণ করে ‘চোর ধরা পড়েছে’ ক্যাপশনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। যদিও পরবর্তীতে গ্রামের মুরব্বিরা তাঁর সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হয়ে সসম্মানে বিদায় দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন, তবে ততক্ষণে তাঁর সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদার অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিরাইয়ের সংবাদকর্মীরা এক যৌথ বিবৃতিতে অবিলম্বে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। হেনস্তার শিকার সাংবাদিক মিঠু বলেন, "মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ভাইরাল হওয়ার লোভে আমার সম্মান ধূলিসাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই।"
বর্তমানে দিরাই পৌরসভার আনোয়ারপুর এলাকায় বসবাসরত এই সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত অপপ্রচারের ঘটনায় পুরো উপজেলায় নিন্দার ঝড় বইছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
প্রীতম দাস
মন্তব্য করুন: