পাত্রখোলা চা বাগানে উত্তেজনা, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাত্রখোলা চা বাগানে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও বাগানের স্বাভাবিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার বাগানের সাবেক কর্মচারী নারায়ন চত্রীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় কথিত “মফিজ গ্যাং”-এর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বাগান অফিসে গিয়ে বিচার দাবি করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগানের ম্যানেজার ইউসুফ খান তাদের অভিযোগ গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমার তিনজন থাকলেও বাগান চলবে।” এ বক্তব্যে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাত্রখোলা চা বাগানের শ্রমিকরা আন্দোলন ও অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন। শ্রমিকদের ভাষ্য, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
শ্রমিকদের প্রধান দাবি
১. কথিত “মফিজ গ্যাং”-এর সদস্য জাফরকে অবিলম্বে কাজ থেকে বিরত রাখতে হবে।
২. মফিজ গ্যাং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারখানার চৌকিদারি পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।
৩. বাগানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ম্যানেজার ইউসুফ খানকে অন্যত্র বদলি করতে হবে।
৪. শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিলে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।
শ্রমিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাগানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। তারা জানান, গত ডিসেম্বরে রবি মোন্ডা নামে এক শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার পর থেকেই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। বর্তমান আন্দোলন সেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিকরা।
এদিকে বাগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: