নিরাপত্তা চেয়ে ওসির কাছে জিডি
বানিয়াচংয়ে খাদ্য গুদামে জোরপূর্বক ধান দেওয়ার চেষ্টা ও হুমকি
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সরকারি খাদ্য গুদামে নিয়মবহির্ভূত ও জোরপূর্বক ধান সরবরাহের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজের ও গুদামের নিরাপত্তা চেয়ে বানিয়াচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: সাইফুল আলম সিদ্দিকী। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) বানিয়াচং থানায় এই জিডি আবেদনটি করা হয় এবং সাম্প্রতিক সময়ে গুদাম এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। থানায় দায়ের করা জিডি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাদ্য গুদাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে চলমান বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে কিছু সংখ্যক স্থানীয় প্রভাবশালী মানুষ ও মধ্যস্বত্বভোগী লটারির তালিকা বহির্ভূতভাবে জোরপূর্বক গুদামে ধান সরবরাহের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে এবং কর্মকর্তাদের নানা ধরনের হুমকি প্রদান করছে; অথচ সরকারি নিয়মনীতি অনুযায়ী, উপজেলা সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক লটারির মাধ্যমে বিজয়ী প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করেই বোরো ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গুদামে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাধারণ লেবার ও নিরাপত্তা প্রহরীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় এই সংরক্ষিত এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশি সুরক্ষার জন্য এই জিডি করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো: সাইফুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “সরকারি খাদ্য গুদাম একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) স্থাপনা হওয়ায় কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে ও নিয়ম মেনে ধান সংগ্রহ সচল রাখতে আমরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি এবং গুদামের ভেতরের নিরাপত্তা বাড়াতে নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে ও রাতের শিফটে পাহারা জোরদার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজমুল হক জানান, খাদ্য গুদামের মতো একটি সরকারি স্পর্শকাতর স্থাপনায় হুমকি ও জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টার বিষয়টি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জিডি নথিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই খাদ্য গুদাম এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সরকারি কাজে বাধাদানকারীদের চিহ্নিত করতে প্রয়োজনীয় সব আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: