সিলেটের মুশতাক আহমদের অনন্য কৃতিত্ব
কিচেন পোর্টার থেকে ব্রিটিশ কাউন্সিলের স্পিকার
একসময় সিলেটের বহু তরুণের স্বপ্ন ছিল ভাগ্য বদলের আশায় যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানো; সেই স্বপ্ন বুকে নিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিলেতে গিয়ে রেস্টুরেন্টের ‘কিচেন পোর্টার’ হিসেবে জীবনযুদ্ধ শুরু করেছিলেন মুশতাক আহমদ। সব প্রতিকূলতাকে জয় করে দীর্ঘ অধ্যবসায় আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নবনির্বাচিত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন। গত ২০ মে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভায় তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত করা হয় এবং টাওয়ার হ্যামলেটের নির্বাহী মেয়র ইতিমধ্যে তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। মুশতাক আহমদের জন্ম ১৯৬৯ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের খতিরা গ্রামে; তাঁর পিতা প্রয়াত মোহাম্মদ ইব্রাহিম বেগ ও মাতা প্রয়াত হুসনে আরা বেগম। ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে গিয়ে অন্য অনেক অভিবাসীর মতো রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করলেও পরে তিনি নিজেই সফল ক্যাটারিং ব্যবসা গড়ে তোলেন এবং প্রায় এক যুগ তা পরিচালনা করেন। তবে সেখানেই থেমে না থেকে যুক্তরাজ্যে আসার প্রায় ১৪ বছর পর, ৩২ বছর বয়সে তিনি পুনরায় পড়াশোনা শুরু করে টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজ থেকে ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, ওপেন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ল’ থেকে বার অ্যাট-ল সম্পন্ন করে ২০১৭ সালে ইনার টেম্পল থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে অভিষিক্ত হন। বর্তমানে ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে সিভিল, এমপ্লয়মেন্ট ও ইমিগ্রেশন আইনে দক্ষতার পরিচয় দেওয়া মুশতাক আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই কমিউনিটি কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। তিনি রয়েল লন্ডন হাসপাতালে প্রায় ১৫ বছর হেলথ অ্যাডভোকেট, পুলিশ কাস্টডি ভিজিটর প্যানেল সদস্য এবং স্কুল গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কাউন্সিলের স্পিকার হওয়ার আগে তিনি জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার এবং ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটির চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সহায়তায় নিয়োজিত ‘মারি সেলেস্টে সামারিটান সোসাইটি অব দ্য রয়্যাল লন্ডন হাসপাতাল’ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করা ‘ভ্যালান্স কমিউনিটি স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন’ নামের দুটি চ্যারিটি সংগঠনকে সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক মুশতাক আহমদের বড় ছেলে ও মেয়েও বাবার পথ অনুসরণ করে আইন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
এ রহমান
মন্তব্য করুন: