সিলেটে কখন কোথায় ঈদের জামাত

সিলেটে কখন কোথায় ঈদের জামাত

প্রথম ডেস্ক

২৭/০৫/২০২৬ ১২:২২:৩৫

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

আর মাত্র একদিন পরেই মুসলিম জাহানের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা; উৎসবের এই পুণ্য লগ্নকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের প্রধান ও বৃহত্তম জামাত ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ঠিক সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসন, সিলেট সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে পবিত্র এই বড় জামাতকে ঘিরে মাঠ প্রস্তুতকরণ, অজুর ব্যবস্থা ও সামিয়ানা টাঙানোসহ মুসল্লিদের সমস্ত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। শাহী ঈদগাহের রাজকীয় মিম্বরে ঈদের মূল নামাজ শুরুর পূর্বে পুণ্যার্থী মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে মূল্যবান বয়ান পেশ করবেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রখ্যাত খতিব মাওলানা মোশতাক আহমদ খান এবং বড় এই ঈদের জামাতে সরাসরি ইমামতি করবেন সিলেটের প্রবীণ আলেম মুফতি জুনায়েদ আহমদ।

সিলেট মহানগরী ও জেলার প্রধান প্রধান ঈদ জামাতের সময়সূচি এবং স্থান পর্যালোচনায় জানা গেছে, সিলেট সরকারি আলীয়া মাদরাসা মাঠে ‘আঞ্জুমানে খেদমতে কুরআন সিলেট’-এর বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঈদের একটি বিশাল ও আকর্ষণীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে; যেখানে জামাতে মূল ইমামতি করার দায়িত্ব পালন করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা লুৎফুর রহমান হুমায়দী এবং এই মাঠে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্দাশীল মহিলা ও শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ও সুরক্ষিত প্যান্ডেলের বিশেষ আধুনিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ওলি-আউলিয়ার পুণ্যভূমি দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং এতে ইমামতির পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন হাফেজ মাওলানা হুজাইফা হোসাইন চৌধুরী; তবে বর্তমান বর্ষাকালীন বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো কারণে আবহাওয়া প্রতিকূল বা অতি ভারী বৃষ্টি হলে মাজারের ভেতরে মুসল্লিদের সুবিধার্থে দ্বিতীয় আরেকটি অতিরিক্ত জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট নগরীর ব্যস্ততম বন্দরবাজার এলাকার ঐতিহাসিক কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পর্যায়ক্রমে মোট ৩টি পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১ম জামাত সকাল ৭টায়, ২য় জামাত সকাল ৮টায় এবং সর্বশেষ ও ৩য় জামাতটি সকাল scan বা ৯টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, কোর্ট পয়েন্ট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী কালেক্টরেট জামে মসজিদে চাকরিজীবী ও কর্মব্যস্ত মানুষের সুবিধার্থে সমগ্র সিলেট নগরীর মধ্যে সবচেয়ে ভোরে অর্থাৎ সকাল ৬টায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং দূরবর্তী এলাকার মানুষের সুবিধার্থে ঐতিহাসিক শাহপরান (র.) মাজার মসজিদেও ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিসংখ্যান এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, এ বছর পুরো সিলেট জেলা ও মহানগর এলাকায় সর্বমোট ২ হাজার ৭০৬টি অনুমোদিত ঈদগাহ ময়দান ও বড় মসজিদে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাত একযোগে অনুষ্ঠিত হবে; যার মধ্যে শুধু সিলেট মহানগর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৯৬টি স্পটে ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট বিভাজনে ৩২৫টি বড় জামে মসজিদে এবং ৭১টি উন্মুক্ত ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করবেন নগরবাসী। অপরদিকে, সিলেট জেলার আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলায় মোট ২ হাজার ৩১০টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে গ্রামীণ ও শহরতলীর বড় বড় জামে মসজিদে ১ হাজার ৯৯০টি এবং উন্মুক্ত ও গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহে হবে ৩২০টি পবিত্র ঈদ জামাত।

এদিকে, উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, ঈদের দিন দেশি-বিদেশি মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং ঈদগাহের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সুন্দর ও পবিত্র রাখতে তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বলয়সহ সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সিলেট অঞ্চলের সাম্প্রতিক আকস্মিক বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে প্রায় প্রতিটি খোলা ঈদগাহে বিকল্প ত্রিপল ও ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানা ব্যবহারের সর্বোচ্চ প্রস্তুতিও সম্পন্ন রেখেছে প্রশাসন।


এ রহমান

মন্তব্য করুন: