বিশ্বনাথে তরুণদের ভালোবাসায় সেজে উঠছে বেতসান্দির পথঘাট

বিশ্বনাথে তরুণদের ভালোবাসায় সেজে উঠছে বেতসান্দির পথঘাট

প্রথম ডেস্ক

২৭/০৫/২০২৬ ১৯:২৯:৪৯

প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন না: ফাইজ তাইয়েব আহমেদ

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই এক সুতোয় বেঁধে থাকা অনাবিল সৌহার্দ্য। আর সেই আনন্দের রঙে নিজের প্রিয় গ্রামকে রাঙিয়ে তুলতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল একদল স্বপ্নবাজ তরুণ। পবিত্র ঈদুল আজহার আবহে চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই নিজের এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে তুলতে এক বুক ভালোবাসা নিয়ে রাজপথে নেমে এলো সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের বেতসান্দির একঝাঁক প্রাণোচ্ছল যুবক।


‘আল-আকসা ইসলামি সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার (২৬ মে) দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। নিজের গ্রামকে ভালোবেসে, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নিতে তরুণেরা নিজ হাতে ঝাড়ু আর কোদাল তুলে নেন। বেতসান্দির সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি পরম যত্নে পরিষ্কার করেন তারা। শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাই নয়, মুসল্লিদের স্বাগত জানাতে বর্ণিল গেইট আর শুভেচ্ছা ফেস্টুন দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় পুরো পথ, যেন পুরো গ্রামে এখন উৎসবের এক অপরূপ আবহ।


ক্লান্তিহীন এই উৎসবে দিনভর মেতে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি জুনেদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন, অর্থ সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া আহমদ এবং সহ-অর্থ সম্পাদক বদরুল আলম। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই মহৎ কাজে আরও শামিল হয়েছিলেন হাফিজ জাকারিয়া আহমদ, জয়নাল আহমদ, সোহাগ আহমদ, কামরুল ইসলাম, আফজাল আহমদ, শুভ আহমদ, রিয়ান আহমদ, মুহিন ইসলাম, হাফিজ মুহিব আহমদ, মুজাহিদ ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, মাহি আহমদ, আলাল আহমদ, আরমান আহমদ, একরামুল ইসলাম, রুহান আহমদ, হাঃ কিব্রিয়া আহমদ, মারজান আহমদ, তাইফ আহমদ, মুহাম্মদ আলী, মেহেদী হাসান জয়, রহিম আহমদ, মাহদি হাসানসহ এলাকার আরও অনেক নিবেদিতপ্রাণ তরুণ।


যান্ত্রিক এই সময়ে তরুণদের এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গ্রামের সাধারণ মানুষ। ঘরের ছেলেরা এভাবে গ্রামের উপকারে এগিয়ে আসায় তারা প্রাণভরে দোয়া করেন।


নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সংগঠনের সভাপতি জুনেদ আহমদ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র দিনটিতে আমাদের গ্রামের মানুষ ও মুসল্লিরা যেন এক চিলতে শান্তির ছোঁয়া পান, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আমাদের গ্রামের তরুণেরা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে, কড়া রোদ উপেক্ষা করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে—তা আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে, আমার বুকটা গর্বে ভরে গেছে। আমি বিশ্বাস করি, এই ঐক্য আমাদের সমাজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।”


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুমিন বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি আর মুসল্লিদের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব ছিল। আমাদের এই উদ্যোগের পেছনে লুকিয়ে ছিল এক বুক ভালোবাসা। রাস্তা পরিষ্কার ও সাজসজ্জার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ যেমন দ্বিগুণ হয়েছে, তেমনি আমাদের ভেতরের সামাজিক সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয়েছে। নিজের গ্রামের জন্য কিছু করতে পারার চেয়ে আনন্দ আর কিছুতে নেই।”


গ্রামের মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাওয়া এক প্রবীণ মুসল্লি হাসিমুখে বলেন, “ঈদের আগে ছেলেরা রাস্তাটা যেভাবে পরিষ্কার করে সাজিয়ে দিল, দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এই তো আমাদের বাংলার আসল রূপ, এই তো আমাদের ঈদের আনন্দ।” তরুণেরা স্বপ্ন দেখছেন, শুধু এই ঈদেই নয়, আগামী দিনেও তাদের এই ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বদলে যাবে তাদের প্রিয় বেতসান্দি গ্রাম।

এ কে জীবন / ডি আর ডি

মন্তব্য করুন: