ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
প্রার্থী নিয়ে বিএনপিতে ধুম্রজাল, ভোট বাজারে প্রভাব নেই জামায়াতের
নির্বাচন কবে ? আদৌ হবে কিনা-এমন সংশয় দেশের সর্বত্র বিরাজমান। তবে সংশয় থাকলেও নির্বাচন হবেই-এমন সম্ভাবনায় প্রার্থী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর রাজনৈতিক দলগুলো। তবে আওয়ামী লীগ নিয়ে এখনো নেই কোন উৎসাহ কিংবা উৎসুক। সুযোগে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে জামায়াতে ইসলা্ম ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এর মধ্যে বিএনপিতে জোটগত কারণে প্রার্থীতা নিয়ে রয়েছে জটিল হিসেব। ভোটবাজারে এই দলের এখন বেশ আধিপত্য। সেই হিসেবে জামায়াতের অবস্থান মোটেও ভালো নয়। ভোটারদের তথ্য মতে, কুলাউড়ার মানুষ ইসলামপ্রিয় ও শান্তিপ্রিয়। তবে দল হিসেবে জামায়াতকে পছন্দ নয়-এমন সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি মাস মাথায় রেখেই প্রার্থীরা এখন নির্বাচনী মাঠে বেশ সরব। আগামী নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন? কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন এ নিয়ে শহর থেকে গ্রামের চায়ের টেবিল পর্যন্ত সরব আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সভাসমাবেশ এমনকি সালিশ বিচার চলাকালেও হঠাৎ ভোটের আলোচনা।
জেলার কুলাউড়া উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসন গঠিত। এখানের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ। দেশের সকল দলের অংশগ্রহণ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন মহাজোট (জাতীয় পার্টি) প্রার্থী নবাব আলী আব্বাস খান এবং ২০১৮ সালের পাতানো নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট (গণফোরাম) র প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এছাড়া ২০১৪ সালের একদলীয় নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মতিন (স্বতন্ত্র) এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এমপি নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে ছেড়ে আলাদা কমিটি গঠন করেন।তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেন। তখন মহাজোটের এমপি নবাব আলী আব্বাস খান কাজী জাফর আহমেদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনিও অংশ গ্রহণ করেননি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ১২ দলীয় জোটের মাধ্যমে বিএনপির সাথে বিভিন্ন সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় আছে।
২০০১ সাল থেকে অঘোষিতভাবে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসনটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শরীক দলের জন্য বরাদ্দ রেখেছে। বিএনপি ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এবং ২০১৪ সালে গণ ফোরামের প্রার্থী ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুরকে ছেড়ে দেয়। অনুরুপভাবে আওয়ামী লীগ ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নবাব আলী আব্বাস খান ও পিন্টু এবং ২০১৮ সালে বিকল্পধারার প্রার্থী সাবেক এম এম শাহীনকে ছেড়ে দেয়। ফলে আগামী নির্বাচনে ওই আসনে বিএনপির জোট থেকে নবাব আলী আবাস খানের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিএনপি: আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন কে পাবেন এই সমীকরণ অনেক জটিল। জাতীয় পার্টি কাজী জাফর গ্রুপ এখনো বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির সাথে যোগপত কর্মসূচি পালন করে আসছে। পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ৩ বারের এমপি নবাব আলী আব্বাস খান এই আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে বিএনপি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলে আসনটি তাদের ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। আর তা হলে এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হওয়ার বেশী সম্ভাবনা নবাব আলী আব্বাস খানের।
তবে স্থানীয় বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসনটি না ছাড়ার ব্যপারে একাট্টা। বিভিন্ন সভাসমাবেশ করে বিএনপির যেকোনো একজনকে প্রার্থী করার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এখানে বিএনপি থেকে ২০০৮ সালের ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজা অন্যতম প্রার্থী। তবে তার পথের কাটা বহির্বিশ্ব বিএনপির সভাপতি এবং কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. সাইফুল আলম চৌধুরী এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শওকতুল ইসলাম শকু। এছাড়া চেয়ারপার্সনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি নেতা সৈয়দ জুবায়ের আলী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুরমান আলী,প্রবাসী ছাত্রদল নেতা সিদ্দিক হোসাইন রুবেলও প্রচারপত্র বিলি করেছেন।
জামায়াতে ইসলামী : জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যে জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক ঘনঘন কুলাউড়া সফর করে বিভিন্ন সভাসমাবেশ এমনকি গণসংযোগ করায় তাকেও সম্ভাব্য প্রার্থী ধরে নির্বাচনী আলোচনা চলছে। তবে ভোটারদের তথ্য মতে ভোট বাজারে জামায়াতের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো নয়। এমনকি আওয়ামী লীগ নির্বাচনের সুযোগ না পেলে বিএনপি কিংবা তাদের গঠিত জোট প্রার্থী এই আসনে বিজয়ী হওয়া সম্ভাবনা শতভাগ।
এছাড়া আঞ্জুমানে আল ইসলাহ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা কাজী ফজলুল হক খান শাহেদ একজন সম্ভাব্য প্রার্থী বলে জানা গেছে।
এছাড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণ অধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদসহ কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল কুলাউড়া আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
মীর্জা ইকবাল
মন্তব্য করুন: