হাতে স্ক্রিনশটের পাহাড় আর ট্রোলারদের ‘ঝাঁটতে’
আইনি লড়াইয়ে নিউইয়র্ক থেকে সিলেট আসছেন শিউলী নানী
এতদিন যারা ভেবেছিলেন সুদূর আমেরিকার নিউইয়র্কে বসে কনটেন্ট ক্রিয়েটর খালেদা শিউলি শুধু ট্রোল ভিডিও দেখে চোখের জল ফেলছেন, তাদের জন্য এবার চরম সতর্কবার্তা! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে এবং তাঁর মেয়ে-জামাইকে নিয়ে ট্রোলের বন্যা বয়ে যাওয়ার পর এবার আইনি লড়াইয়ের হুংকার দিয়েছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার এই কৃতি সন্তান ও মার্কিন প্রবাসী। তিনি সিলেটবাসীর কাছে নানী হিসেবে বহুল পরিচিত।
আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই তিনি বাংলাদেশে পা রাখছেন। আর তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে কুলাউড়ার আঞ্চলিক মহলে ইতিমধ্যে বেশ রসাত্মক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রসিকজনদের দাবি—আপা শুধু মামলার ফাইলই আনছেন না, সাথে করে কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী শক্ত বাঁশের ‘কুলাও’ নিয়ে আসছেন, যা দিয়ে ট্রোলারদের ডিজিটাল দুনিয়া থেকে একেবারে ‘ঝেঁটিয়ে’ বিদায় করা হবে!
শিউলি আপার ফেসবুক ঘোষণার পর থেকেই কুলাউড়ার বাতাসে এখন টানটান উত্তেজনা। স্থানীয়দের ধারণা, শিউলি আপার বিমানের লাগেজে কাপড়ের চেয়ে ট্রোলারদের দেওয়া পোস্টের ‘স্ক্রিনশটের প্রিন্টআউটের’ ওজনই নাকি বেশি হবে।
কুলাউড়া থানায় যখন তিনি মামলার এজাহার জমা দেবেন, তখন কাগজের স্তূপ দেখে ডিউটি অফিসারের চোখ চড়কগাছ হতে বাধ্য। এক স্থানীয় ফেসবুক ব্যবহারকারী রসিকতা করে মন্তব্য করেন, "আমেরিকার গ্রিন কার্ড থাকতে পারে, কিন্তু রাগ উঠলে আমরা যে কুলাউড়ার খাঁটি মানুষ, সেটা শিউলি আপা প্রমাণ করে ছাড়বেন। স্ক্রিনশট বাটন চাপতে চাপতে ওনার ফোনের ডিসপ্লে নাকি প্রায় ক্ষয় হয়ে গেছে!"
খালেদা শিউলি কড়া ভাষায় মনে করিয়ে দিয়েছেন, তিনি একজন মার্কিন নাগরিক। ফলে এই মানহানি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, ট্রোলাররা এটিকে সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্রাইসিস’ বানিয়ে ছেড়েছে।
ট্রোলাররা ভাবছিল কুলাউড়া অনেক দূর, আর আমেরিকা আরও দূর—কেউ কিচ্ছু করতে পারবে না। কিন্তু শিউলি আপা বুঝিয়ে দিলেন, কুলাউড়ার মানুষ যেমন সাত সমুদ্র তেরো নদী পাড়ি দিতে পারে, তেমনি মামলার ফাইল হাতে ঠিক সময়ে কুলাউড়া থানাতেও হাজির হতে পারে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এলাকার কিছু ট্রোলার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাকি ইতিমধ্যে কুলাউড়া ছেড়ে শ্রীমঙ্গল বা বড়লেখার চা বাগানে আত্মগোপন করার পরিকল্পনা করছেন। অনেক পেজ অ্যাডমিন এখন রাত জেগে শিউলি আপার পেজের দিকে নজর রাখছেন এবং পুরোনো ট্রোল ভিডিওগুলো ডিলিট করতে গিয়ে নিজেদের আঙুল ব্যথা করে ফেলছেন। ট্রোলাররা এখন টের পাচ্ছে, মৌলভীবাজারের মানুষের সাথে ট্রোল করে পার পাওয়া আর বাঘের খাঁচায় হাত দেওয়া একই কথা।
এখন দেখার বিষয়, আগামী মাসে আপা কুলাউড়ায় এসে আসলেই মামলার মহোৎসব শুরু করেন, নাকি ট্রোলারদের ডেকে কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী চা খাইয়ে 'আপস-মীমাংসা'র নতুন কোনো ব্লগ ভিডিও আপলোড করেন। তবে যাই হোক না কেন, কুলাউড়ার ইতিহাসে এই "স্ক্রিনশট অভিযান" যে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য!
ডিজিটাল দুনিয়ার এই হাই-ভোল্টেজ ড্রামা দেখতে এলাকাবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি!
শাহিন আহমেদ/ ডি আর ডি
মন্তব্য করুন: