বিয়ানীবাজারে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ শুক্রবার: শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ট মতবিরোধের মীমাংসা হয়েছে। সমঝোতার শর্ত হিসেবে এবার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হলেও আগামী বছর থেকে সোনাই নদীতে এ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দেলওয়ার হোসেন বলেন, ‘‘শনিবার রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আয়োজক কমিটি ২৮ আগস্ট নৌকাবাইচ আয়োজনের জন্য অনুমতি নিয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘নৌকাবাইচের কারণে নদীভাঙন ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। এ কারণে এবার আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হলেও আগামী বছর থেকে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’’
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামও জানিয়েছেন স্থানীয়দের আন্তরিক সহযোগিতা ও আলোচনার মাধ্যমে জটিলতার সমাধান হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানায়। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছিল, নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় নৌকাবাইচটি হওয়ার কথা রয়েছে।
শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পারস্পরিক সমঝোতায় বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিয়ানীবাজার উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে তারা সমঝোতায় মত দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন।
বিরোধের শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন বারইগ্রাম বাজার মসজিদের দোতলায় ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে একটি পরামর্শ সভা হয়। সভায় নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি, যানজট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কার কথা বলা হয়। কয়েকজন বক্তা নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর বসার আশঙ্কার কথাও বলেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির সঙ্গে ধর্মীয় বিরোধের সম্পর্ক নেই। তাদের অভিযোগ, আয়োজক কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় বিরোধিতাকারীদের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে আয়োজন বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে সোনাই নদীতে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ‘‘বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।’’
তবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, ‘‘পরের বছর থেকে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না, এমন শর্তে এবার সমঝোতা হয়েছে বিষয়টি তার জানা নেই।’’
নীরব চাকলাদার
মন্তব্য করুন: